শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গাম্বিয়া থেকে স্পেনে সমুদ্রযাত্রায় ৮৩ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি অভিবাসনপ্রত্যাশী নৌকা থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ২৭ দিন ধরে সাগরে ভেসে থাকা নৌকাটিতে পাঁচটি মরদেহও পাওয়া গেছে। নৌকাটি আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া থেকে ১২৭ জন যাত্রী নিয়ে স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে।

স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফইর তথ্য অনুযায়ী, যাত্রার সময় নৌকাটিতে ১২৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় মাত্র ৪৪ জনকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এর আগে কয়েক দিন ধরে নৌকাটি সাগরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভেসে ছিল।

উদ্ধারকারীরা নৌকার ভেতরে পাঁচটি মরদেহ দেখতে পান। তবে উত্তাল সমুদ্রের কারণে মরদেহগুলো নৌকা থেকে সরিয়ে নিতে পারেননি তারা। গ্রান কানারিয়া দ্বীপের আরগুইনেগুইন শহরের জরুরি পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, মরদেহগুলোর মধ্যে এক শিশু ও দুই নারী ছিলেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জীবিত উদ্ধার হওয়া সবাই আফ্রিকার গাম্বিয়া ও মালির পুরুষ নাগরিক। তাদের অনেকের শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পাশাপাশি সমুদ্রের পানি পান করায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

ক্লান্ত ও দুর্বল অবস্থায় উদ্ধার
স্পেনের আইনপ্রয়োগকারী ও আধাসামরিক বাহিনী গার্দিয়া সিভিল জানিয়েছে, স্প্যানিশ এনজিও কামিনান্দো ফ্রন্তেরাসকে তারা নিশ্চিত করেছে যে নৌকাটির গায়ে থাকা চিহ্নগুলো ৭ আগস্ট গাম্বিয়া থেকে যাত্রা করা একটি নৌকার সঙ্গে মিলে যায়। ওই নৌকায় ১২৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও একটি শিশুও ছিল।

এই তথ্যের সঙ্গে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। তারা আরগুইনেগুইন বন্দরে রেড ক্রসের কাছে জানিয়েছিলেন, একশোর বেশি যাত্রী নিয়ে তারা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় তাদের অনেকেই মারা যান।

তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ইএফইর তথ্য অনুযায়ী, স্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ যখন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় নথিভুক্ত করার জন্য বসতে বলছিল, তখন অনেকেই ক্লান্তিতে টেবিলের ওপর পড়ে যান।

সমুদ্র উদ্ধার সংস্থা সালভামেন্তো মারিতিমো জানিয়েছে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাদের একটি বিমান গ্রান কানারিয়া থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে নৌকাটিকে শনাক্ত করে। পরে মধ্যরাতে উদ্ধারকারী জাহাজ গুয়ারদামার উরানিয়া নৌকাটির কাছে পৌঁছে সহায়তা করে।

ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনপথ
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে এ ধরনের দুর্ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত এক দশকে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর অভিবাসনপথটি সাব-সাহারান আফ্রিকার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অন্যতম প্রধান রুট হয়ে উঠেছে।

মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও সেনেগালের মতো দেশগুলোতে নজরদারি বাড়ায় এখন গাম্বিয়া থেকেও অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছোট নৌকায় যাত্রা শুরু করছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। তবে এত দূর থেকে স্পেনের দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

গাম্বিয়া থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আটলান্টিক মহাসাগরে দীর্ঘ সময় যাত্রা করতে হয়। এতে নৌকা পথ হারানো, ইঞ্জিন বিকল হওয়া বা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ ছাড়া শক্তিশালী বাতাস ও প্রবল স্রোত এই যাত্রাকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। বহু অভিবাসীর বর্ণনায় উঠে এসেছে, খারাপ আবহাওয়া, নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়া, তৃষ্ণা ও ক্ষুধার কারণে সমুদ্রযাত্রা কতটা ভয়াবহ হয়ে ওঠে।আগস্টের শুরুতে ১৩৩ জন অভিবাসী নিয়ে আরেকটি নৌকা কয়েক দিন সাগরে ভেসে থাকার পর স্পেনের উদ্ধারকারীরা তাদের উদ্ধার করেন। নৌকাটি ১১ দিন আগে গাম্বিয়া থেকে যাত্রা করেছিল।

আরও পড়ুন

বেলুচিস্তানে ১২ ‘সন্ত্রাসী’ হত্যার দাবি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর

অভিবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা গাম্বিয়ার বাকাউ থেকে ১১ দিনের যাত্রা শেষে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছান। ওই নৌকায় গাম্বিয়া, সেনেগাল, মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া ও কোত দিভোয়ারের নাগরিক ছিলেন। গত ২২ জুলাই ১৬৫ জন যাত্রী বহনকারী একটি ছোট নৌকা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপে পৌঁছায়। ওই যাত্রায় এক নারী মারা যান এবং ছয় মাস বয়সী একটি শিশুসহ ১৫ জন আহত হন।

এর আগে জানুয়ারির শুরুতে গাম্বিয়ার উপকূলে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের দাবি, যাত্রার সময় নৌকাটিতে প্রায় ২০০ জন মানুষ ছিলেন। ফলে ওই ঘটনায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র : এএফপি

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: