চুক্তি চূড়ান্ত করতে কাতারের প্রতিনিধি দল ইরান পৌঁছেছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল ইরানে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আশাবাদ প্রকাশের পর এই তথ্য সামনে আসে। রোববার (১৪ জুন) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, রোববারের মধ্যেই একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর এমন আশাবাদের মধ্যে এই অগ্রগতি কূটনৈতিক অগ্রযাত্রায় নতুন গতি এনেছে। চুক্তিটি হলে প্রায় চার মাস ধরে চলমান সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। দেশটির কট্টরপন্থিরা আলোচনার শর্ত ও সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়বস্তুরও তীব্র বিরোধিতা করছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রোববারই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। তাদের মতে, এখনো কোনো সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়নি এবং ইরানি আলোচকেরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ট্রাম্প চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করছেন এবং বিষয়টি তার জন্মদিনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কালে ২০১৫ সালে হওয়া ইরান পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ওই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ সহজ করে দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প লেখেন, তার প্রশাসন সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করেছে এবং এখন ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে নেই। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নত। ট্রাম্প আরও লেখেন, রোববার চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে এবং তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সূত্র: আলজাজিরা
ভোরের আকাশ/সু.পা