কিছু মিত্র দেশের আচরণে আমি হতাশ : ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এসব আহ্বান মার্কিন মিত্র দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাওয়ার পরও কিছু দেশ কৃতজ্ঞতা দেখাচ্ছে না।”
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার জন্য ট্রাম্প তার মিত্র দেশগুলোকে নৌ-জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও জার্মানি, স্পেন ও ইতালি আপাতত কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। ইরান ড্রোন এবং নৌ-মাইন বসিয়ে কার্যত জলপথটি বন্ধ রেখেছে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বার্লিনে বলেন, “জার্মান সংবিধান অনুযায়ী এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে হলে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অথবা ন্যাটোর অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর আগে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।”
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “অনেক দেশ আমাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কিছু পুরোনো মিত্র দেশের আচরণে আমি হতাশ। কিছু দেশ খুব আগ্রহী, আবার কিছু নয়। আমরা বহু বছর ধরে তাদের সাহায্য করেছি এবং বাইরের হুমকি থেকে রক্ষা করেছি। কিন্তু তারা যথাযথ আগ্রহ দেখায়নি। আর সেই আগ্রহের মাত্রা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তেহরান হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি নৌ-যান ও তেলবাহী জাহাজগুলোও রক্ষা করার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করার বিষয়টি ট্রাম্পের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য হুমকি পূর্ণ মাত্রায় বেড়ে গেছে। হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের প্রশাসন দেশে ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে চাপের মুখে পড়েছে।
এই সংঘাতের আরেকটি দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে নির্ভরশীল করে রাখা। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব দেশকে তারা বহু বছর ধরে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিয়েছে, সেসব দেশ এখন প্রয়োজনীয় সময়ে সহায়তা দিতে আগ্রহী নয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।
তেলের বাজার এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। তেলের সরবরাহ সচল রাখতে নৌবাহিনী এবং কৌশলগত পরিকল্পনা তৎপর রয়েছে। তবে মিত্র দেশগুলোর সীমিত সহযোগিতা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র