ইরানের হামলার বিষয়ে রোববার জরুরি বৈঠকে বসছে আরব লিগ

আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এ বিষয়কে সামনে রেখে রোববার (৮ মার্চ) জরুরি বৈঠক ডেকেছে আরব লিগ।
বার্তাসংস্থা এএফপিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরব লিগের সহকারী মহাসচিব হোসাম জাকি। শনিবার (৭ মার্চ) বার্তাসংস্থাটির বরাতে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
হোসাম জাকি বলেন, বেশ কয়েকটি আরব দেশের ভূখণ্ডে ইরানি হামলার বিষয়ে আলোচনা করতে রোববার আরব লিগের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি জরুরি বৈঠকে বসবেন।
তিনি জানান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, জর্ডান এবং মিশরের অনুরোধে এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে গত ১ মার্চ সৌদি বিমান ঘাঁটির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের থাড রাডার সাইট ক্ষতিগ্রস্ত দেখানো হয়েছে স্যাটেলাইট চিত্রে। এতে দেখা যায়, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসের কাছে একটি রাডার সাইট থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ওই সময় এই এলাকাটিতে কয়েক ডজন মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন ছিল।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী মিডলইস্ট আই জানিয়েছে, ইরান বা তার মিত্রদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পাঁচটি রাডার ঘাঁটির মধ্যে এটি একটি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা একটি ব্যাটারি স্থানান্তরের’ কথা বিবেচনা করছে।
চিত্রগুলোতে একটি কম্পাউন্ডের ক্ষতি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যেখানে একটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রাডার সিস্টেম আগে একটি তাঁবুর নিচে ঢাকা ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের নথি অনুযায়ী, এই রাডারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি থাড সিস্টেমের অংশ, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত এবং প্রতিহত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। প্রতিটি রাডারের নির্মাণ খরচ প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ডলার।
এছাড়া ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) শনিবার জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার প্রতিবেদনের বরাতে মিডলইস্ট আই জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
গোষ্ঠীটির দাবি, এই হামলায় ওই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা, ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং গোয়েন্দা নজরদারি স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাডার ব্যবস্থা, জ্বালানি মজুত কেন্দ্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত দুটি রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র