শিরোনাম
ঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গাজায় যুদ্ধের মাঝেও মাধ্যমিক পরীক্ষা: প্রথমবারের মতো অনলাইন আয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৫, ১:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গাজায় যুদ্ধের মাঝেও মাধ্যমিক পরীক্ষা: প্রথমবারের মতো অনলাইন আয়োজন
গাজায় যুদ্ধের মাঝেও মাধ্যমিক পরীক্ষা: প্রথমবারের মতো অনলাইন আয়োজন

ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো গাজায় মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন শত শত শিক্ষার্থী। শনিবার (১৯ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সম্পূর্ণ অনলাইনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর গাজার শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। তারপরও প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। অনলাইনে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে নেওয়া পরীক্ষার জন্য প্রযুক্তিগত সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কেউ কেউ নিজ বাসা থেকে, আবার অনেকে নির্ধারিত কেন্দ্রে বসে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের অভাবে শিক্ষার্থীরা কখনো ক্যাফে, কখনো তাঁবু, আবার আশ্রয়কেন্দ্র থেকেও পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হচ্ছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজজুম দেইর আল-বালাহ থেকে জানান, এই পরীক্ষাটি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রবেশপথ নয়, বরং গাজায় আটকে পড়া তরুণদের ভবিষ্যতের সম্ভাবনার একটি আলো।

“যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা লগ ইন করে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারা যুদ্ধকে নিজেদের স্বপ্ন ধ্বংস করতে দিচ্ছে না,” বলেন তিনি।

পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য একটি মক টেস্ট নেওয়া হয়, যাতে প্রযুক্তিগত ত্রুটি চিহ্নিত করা যায়। তবে শিক্ষার্থীদের অনেকেই বলছেন, গাজার বাস্তবতায় ডিজিটাল পরীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।

এক শিক্ষার্থী দোহা খাত্তাব বলেন, “আমরা অনলাইনে পরীক্ষা দিচ্ছি, কিন্তু ইন্টারনেট দুর্বল, অনেকের কাছে ডিভাইস নেই, এমনকি নিরাপদ পরিবেশও নেই। আমাদের বইগুলোও ধ্বংস হয়ে গেছে।”

শিক্ষিকা ইনাম আবু স্লিসা জানান, “শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো অনলাইন পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে। তারা দ্বিধাগ্রস্ত। আমরা ধাপে ধাপে তাদের সহযোগিতা করছি।”

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় শিক্ষাব্যবস্থার ৯৫ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার স্কুলবয়সী শিশু বর্তমানে বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করছে, যা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতায়ও গাজার শিক্ষার্থীরা যেন থেমে নেই। পরীক্ষা তাদের জন্য কেবল একটি শিক্ষা কার্যক্রম নয়, বরং জীবন ও স্বপ্নের সঙ্গে বেঁচে থাকার লড়াইয়ের একটি অংশ।

ভোরের আকাশ//হ.র

শেয়ার করুন: