হরমুজ প্রণালি এক মাস ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে: আরাঘচি

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আগামী ৩০ দিন তেহরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
হরমুজ প্রণালি এখনো এককভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সমস্ত বাধা দূর হওয়ার পর এই জলপথের পূর্ণ সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা হবে। তেহরান বর্তমানে এই লক্ষ্যে কাজ করছে। দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর ন্যস্ত।
ইরাক সফরের সময় রোববার আব্বাস আরাঘচি এসব কথা বলেন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায় এবং সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়।
যুদ্ধ বন্ধে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই সমঝোতায় ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ইরানকে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।
ইরাক সফরের সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তখন প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে।
আব্বাস আরাঘচি বলেন, লেবানন সংক্রান্ত ধারাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সবগুলো বিষয়ের প্রতি অবশ্যই পূর্ণ সম্মান দেখাতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, জায়নবাদী গোষ্ঠী (ইসরায়েল) লেবাননে তাদের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সমঝোতা স্মারকটি ইসরায়েলও মেনে নিয়েছিল। তাই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনের উচিত তাদের দায়িত্ব পালন এবং লেবাননে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে বাধ্য করা।
একই সঙ্গে লেবাননের যেসব এলাকা ইসরায়েল দখল করে রেখেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য তেল আবিবকে চাপ দিতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান আরাঘচি। তিনি উল্লেখ করেন, সমঝোতা স্মারকের এটিই প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা।
ভোরের আকাশ/এনএস