ফিলিস্তিনকে এখনই স্বীকৃতি দিলে ‘হিতে বিপরীত’ হতে পারে: ইতালির প্রধানমন্ত্রী

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সম্প্রতি আকস্মিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে।
তবে এই সিদ্ধান্তে একমত নয় ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষপাতী নয় রোম। বরং এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মত দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে মেলোনি বলেন, “আমি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে। কিন্তু একটি রাষ্ট্র বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা বাস্তবসম্মত নয়। শুধু কাগজে-কলমে স্বীকৃতি দিলে মনে হতে পারে সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, যদিও বাস্তবে তা হয়নি।”
একই দিন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেন, ভবিষ্যতে যদি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হয়, তাহলে সেটি যেন ইসরায়েলকেও স্বীকৃতি দেয়—এটা নিশ্চিত করতে হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফ্রান্স ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। এই ঘোষণার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েল এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করবে। একই সুরে কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্রও।
অন্যদিকে জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের এ মুহূর্তে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং তারা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান কীভাবে কার্যকর করা যায়, সেই বিষয়ে কাজ করে যেতে চায়।
ফ্রান্সের ঘোষণার পর ইউরোপজুড়ে বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ মানবিক সংকট নিরসনে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষপাতী হলেও, অনেক দেশই এখনো কৌশলগতভাবে অপেক্ষা করতে চায়।
সূত্র: রয়টার্স
ভোরের আকাশ//হ.র