আজাদ কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনে নিত্যপণ্যের সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এএফপি, বিবিসি উর্দু এবং পাকিস্তানি দৈনিক ডন-এর বরাতে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অঞ্চলটির বাজার, মুদি দোকান, ওষুধের দোকান এবং পেট্রোল স্টেশনগুলোতে প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী মুজাফফরাবাদের অনেক বাসিন্দা খাবার ও জ্বালানি সংগ্রহ করতে পার্শ্ববর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় যাচ্ছেন। অন্যদিকে পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ এবং নীলম উপত্যকার মানুষ রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করছেন।
এছাড়া অঞ্চলটিতে সাংবাদিকদের চলাচল এবং ইন্টারনেট সেবাও ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা অত্যন্ত ধীরগতির বলে জানা গেছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর জম্মু-কাশ্মীরের দুটি অংশ—আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্তান—পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে উভয় অঞ্চলই পাকিস্তান-শাসিত প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে রয়েছে এবং সেখানে নিজস্ব প্রাদেশিক আইনসভা বিদ্যমান।
আজাদ কাশ্মীরের ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট আইনসভায় ৪২টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মীর থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।
সংরক্ষিত আসন বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। ৯ জুন তারা হরতাল ডাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় দুই সপ্তাহে সংঘর্ষে ২৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর থেকে ইন্টারনেট ও সংবাদমাধ্যমে কড়াকড়ি আরোপের কারণে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া সীমিত হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাপক গ্রেপ্তারের কারণে বিক্ষোভ কিছুটা ছত্রভঙ্গ হলেও পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। নীলম জেলার বাসিন্দা আলিফ দীন বিবিসি উর্দুকে বলেন, তিনি গত ১৫ দিন ধরে রেশনের দোকান থেকে আটা সংগ্রহ করতে পারছেন না, এবং খোলাবাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
অন্যদিকে, পুঞ্চ জেলার এক বাসিন্দা নাভিদ অভিযোগ করেন, রাওয়ালপিন্ডি থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনে ফেরার সময় নিরাপত্তা বাহিনী তার কাছ থেকে সেসব জব্দ করে নেয়। তিনি বলেন, তার অনুরোধ সত্ত্বেও খাবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আজাদ কাশ্মীরের প্রবেশপথগুলোতে খাদ্য ও নিত্যপণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু সেগুলোকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ডন-কে দেওয়া মন্তব্যে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রক্তপাত এড়াতে সরকার এমন কৌশল নিয়েছে, যাতে সরবরাহ সংকটের কারণে বিক্ষোভের তীব্রতা ধীরে ধীরে কমে আসে।
এদিকে জেএএকে নেতারা জানিয়েছেন, তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না। বরং প্রায় এক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত একটি লংমার্চের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তারা। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
ভোরের আকাশ/সু.পা