দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বহাল রাখার ইঙ্গিত আইডিএফের

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠিত কিছু বাফার জোন থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) সরে গেছে—যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার এমন দাবিকে নাকচ করেছে আইডিএফ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, আইডিএফের দুটি সূত্র দক্ষিণ লেবাননের বাফার জোন থেকে সেনা প্রত্যাহারের খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, ইসরায়েল বাফার জোনের কিছু অংশ থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে এবং এখন সেখানে দায়িত্ব নেওয়া উচিত লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর।
তবে লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের বাফার জোন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যে বাফার জোনের একটি অংশ থেকে সরে এসে বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মতে, এটি লেবাননের বৈধ সরকারের প্রতি সদিচ্ছার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
তিনি আরও বলেন, এখন লেবাননের সেনাবাহিনীর উচিত ওই এলাকাগুলোতে প্রবেশ করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার ও অবকাঠামো অপসারণ নিশ্চিত করা। একই মডেল দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য এলাকাতেও প্রয়োগ করা হবে, যাতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরতে পারে এবং দক্ষিণাঞ্চলের পুনর্গঠন ও লেবাননের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈরুত ও জেরুজালেমের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনায় ইসরায়েল সীমিত পরিসরে সেনা প্রত্যাহারের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। সম্ভাব্য প্রত্যাহারকৃত এলাকার মধ্যে তিবনিন এবং আলি তাহের রিজের নাম উঠে আসে। গত সপ্তাহে এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল আইডিএফ।
আইডিএফের পরিকল্পনা ছিল, সম্প্রতি দখল করা কিছু এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে পর্যবেক্ষণ করা যে লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে হিজবুল্লাহর উপস্থিতি ও অবকাঠামো অপসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে কি না।
এদিকে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯১২ জন নিহত, ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
অন্যদিকে দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন স্থানে চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৬৯৩ জনের বেশি ইসরায়েলি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন আইডিএফ সদস্য এবং ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েল, লেবানন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা দেওয়ায় বাফার জোনে সেনা উপস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা