নিউজিল্যান্ডের ৪ এমপি বিরুদ্ধে চীনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

তাইওয়ান সফরের জেরে নিউজিল্যান্ডের চার সংসদ সদস্যের ওপর এক বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রথমবারের মতো তাইওয়ান সফরের কারণে নিউজিল্যান্ডের কোনো আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিল বেইজিং।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত মে মাসে তাইওয়ান সফর শেষে দেশে ফেরার পর চীনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানতে পারেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা।
তবে নিউজিল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা ক্ষমা চাইলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমানো বা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর তাইওয়ান মূল ভূখণ্ড থেকে পৃথক হয়ে নিজস্ব প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে বেইজিং বরাবরই দ্বীপটিকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং একটি প্রদেশ হিসেবে দাবি করে আসছে। এ কারণে তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক পরিসর সীমিত রাখতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীন।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, দেশটির সংসদ সদস্যরা কয়েক দশক ধরে তাইওয়ান সফর করে আসছেন এবং এ ধরনের সফর নিউজিল্যান্ডের ‘এক চীন নীতির’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে চীনা দূতাবাসের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা বেইজিংয়ের উদ্বেগ উপেক্ষা করে তাইওয়ান সফর করেছেন। এতে তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি এবং স্বাধীনতাপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কাছে ভুল বার্তা গেছে। বেইজিং এটিকে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে নিউজিল্যান্ডের ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্য মরিন পু, ডেভিড উইলসন ও লরা ম্যাকক্লুর এবং বিরোধী লেবার পার্টির ডানকান ওয়েব তাইওয়ান সফর করেন।
নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় লরা ম্যাকক্লুর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেন, এটি এক ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং এ জন্য তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না। একই ধরনের মন্তব্য করে তিনি রেডিও নিউজিল্যান্ডকে বলেন, এ সিদ্ধান্তে তিনি বিস্মিত ও হতাশ। কারণ অতীতেও বহুবার এ ধরনের সফর হয়েছে। তার মতে, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অধিকার রয়েছে এবং এটি একটি মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক অংশ।
এদিকে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বেইজিং ও ওয়েলিংটনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই সিদ্ধান্তের কারণ এবং পূর্ববর্তী চর্চা থেকে বিচ্যুতির বিষয়টি পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে নিউজিল্যান্ড চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তখন থেকেই ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করে আসছে। এই নীতির আওতায় দেশটি বেইজিংকেই চীনের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তবে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তাইওয়ানের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে নিউজিল্যান্ড। সূত্র: বিবিসি।
ভোরের আকাশ/সু.পা