আসামে বন্যায় ১০ জনের প্রাণহানি, ৭৯৪ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য আসামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যটির ৩৫ জেলার মধ্যে ১৬ জেলার ৭৯৪টি গ্রাম ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে। এ দুর্যোগে বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো— শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট, ডিব্রুগড়, সোনিতপুর, বিশ্বনাথ, গোলাঘাট, ধেমাজি, নগাঁও, কারবি আংলং, কাছাড়, উদালগুড়ি, চিরাং, কামরূপ এবং কামরূপ মেট্রো।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব জেলার ৭৯৪টি গ্রামের অন্তত ৩ লাখ ৬২ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি জেলা হলো— শিবসাগর, যেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭২৭ জন; চরাইদেওতে ১ লাখ ৪ হাজার ৪১৫ জন এবং জোরহাটে ৫০ হাজার ৯৮৭ জন।
আসাম রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, আপার আসামের বিস্তীর্ণ আবাসিক এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল পানির নিচে চলে গেছে।
এএসডিএমএর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্রহ্মপুত্র, বুরহিদিহিং, দিসাং, ধানসিঁড়িসহ আসামের প্রায় সব প্রধান নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য উপদ্রুত জেলাগুলোতে এএসডিএমএর উদ্যোগে ১০১টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব শিবিরে ৯ হাজার ৬০৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), আসাম স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। সূত্র : এনডিটিভি অনলাইন
ভোরের আকাশ/সু.পা