শিরোনাম
বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের ওপর নজর রাখছে ভারতশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদেরপুলিশের এএসআই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ২ হাজার১০০ কিলোমিটারে ১৫ বছরের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর নয়সংবিধানে শিক্ষা-চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার করার প্রস্তাবনিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শনী স্থগিতউদয়ন স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভসরানো হলো এসআরবি প্রধানকেবাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের ওপর নজর রাখছে ভারতশ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদেরপুলিশের এএসআই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ২ হাজার১০০ কিলোমিটারে ১৫ বছরের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর নয়সংবিধানে শিক্ষা-চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার করার প্রস্তাবনিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রদর্শনী স্থগিতউদয়ন স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভসরানো হলো এসআরবি প্রধানকে

হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ
হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ

জলবায়ু পরিবর্তন এবং হিমালয় অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে নেপাল, ভারত ও তিব্বতের অন্তত ৩ লাখ মানুষ চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছেন। 'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস' জার্নালে প্রকাশিত এই পিয়ার-রিভিউড গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, হিমবাহসৃষ্ট হ্রদের বিস্ফোরণজনিত বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে এই বিশাল জনসংখ্যা মারাত্মক বিপদের মুখে রয়েছে।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাজ্য, নেপাল ও ভারতের নয়জন গবেষক। তারা হিমালয়ের নদীগুলোর দুই তীর থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা এবং প্রায় ১ হাজার ৩৬০টি হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের আশপাশের অঞ্চল বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষকদের মতে, পর্যটন অবকাঠামো, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সড়ক এবং আবাসন নির্মাণের কারণে এসব এলাকায় জনবসতি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

গবেষণায় ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা তিন লাখের বেশি বলে উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, গবেষণায় হিমালয়ের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আশপাশের একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো এর আওতায় আসেনি।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ও যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ সি স্কট ওয়াটসনের মতে, নদী উপত্যকাগুলোতে জনসংখ্যা ও অবকাঠামো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। এখন উন্নয়ন নিয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে মানুষের নিরাপত্তার ওপর পড়বে।

নেপালের পোখরার দৃশ্য। চওড়া উপত্যকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে ঘরবাড়ি ও নিচু ভবন। এর মাঝে চোখে পড়ে উজ্জ্বল সবুজ মাঠ। দূর পর্যন্ত বিস্তৃত উপত্যকাটি ঘিরে রয়েছে বনভূমিতে ঢাকা পাহাড় ও পর্বত। আকাশে ঘন মেঘ, যার আড়ালে নীল আকাশ আবছা দেখা যাচ্ছে।

নেপালের পর্যটননগরী পোখরা এ পরিস্থিতির একটি উদাহরণ। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত শহরটিতে গত তিন দশকে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পর্যটন সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শহরের পরিধি ও নদীতীরবর্তী স্থাপনা।

পোখরার মেয়র ধনরাজ আচার্য বলেন, শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সেতি গণ্ডকি নদী থেকে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অন্নপূর্ণা পর্বতমালা থেকে নেমে আসা এ নদীর তীর থেকে মাত্র পাঁচ মিটার দূরত্বেও অনেক পুরোনো ভবন রয়েছে। অথচ নতুন নিয়ম অনুযায়ী নদী থেকে আরও দূরে ভবন নির্মাণের কথা। এসব স্থাপনা কোথায় ও কীভাবে সরানো হবে, সেটিই বড় সমস্যা বলে জানান তিনি।

পোখরার উত্তরে অবস্থিত অন্নপূর্ণা ট্রেকিং এলাকাতেও নদীতীরবর্তী বসতি বেড়েছে। সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে এসব এলাকার কয়েকটি বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে হোমস্টে পরিচালনা করেন ফুরপা শিরিং লামা। তার ২০ কক্ষের আবাসনকেন্দ্রে সাধারণত পর্যটনের মৌসুমে সব কক্ষ পূর্ণ থাকলেও বর্তমানে অতিথি রয়েছেন মাত্র পাঁচ কক্ষে। চার দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করলেও এমন দুর্যোগ আগে দেখেননি বলে জানান তিনি।

মোদি নদীর পাশে হোটেল পরিচালনা করেন কৃষ্ণ গৌচন। হিমবাহ থেকে নেমে আসা বরফগলা পানির ওপর নির্ভরশীল এ নদীতে হঠাৎ বন্যার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন তিনি। তার আশঙ্কা, হিমবাহ ভেঙে পড়লে কিংবা হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের পানি আকস্মিকভাবে বেরিয়ে এলে নদীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।

ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের শিক্ষক খগেন্দ্র পৌডেল বলেন, পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ ঝুঁকি বিবেচনা না করেই বিভিন্ন এলাকাকে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরছেন। উত্তর ভারতের হিমালয় অঞ্চলের উপত্যকাগুলোতেও একই প্রবণতা রয়েছে। সেখানে ধর্মীয় তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে।

পোখরা হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লক্ষ্মণ সুবেদিও মনে করেন, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই ওই অঞ্চলে পর্যটন ব্যবসার বিস্তার ঘটেছে। তার ভাষ্য, দুর্যোগ আঘাত হানার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে পেরিয়ে যায়। এ কারণে পর্যটন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে সংগঠনটি কাজ করছে।

তবে শুধু পর্যটন অবকাঠামো নয়, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্প্রসারণও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নির্মাণ বাড়াচ্ছে। নেপালের ভোটেকোশি ও ত্রিশূলি নদীর আশপাশে এ ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গবেষণায় নদী বা হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের পানির স্তর থেকে ৫০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা ভবনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে বাস্তব দুর্যোগে পানির উচ্চতা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। গত ২৬ আগস্ট নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কোনো কোনো স্থানে নদীর পানি ৭০ মিটার পর্যন্ত উঁচুতে উঠেছিল। এতে নদীর তীর থেকে দূরে থাকা ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়; অনেক স্থাপনা কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

নেপালে আগস্টের ওই বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ হন। এরপরও বিভিন্ন এলাকায় বন্যার ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ অক্টোবর বুধি গণ্ডকি নদীতে বন্যায় প্রায় ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ভেসে যায় পাঁচটি সেতু এবং পাঁচজন নিখোঁজ হন।

হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। ফলে হিমবাহ, বরফে ঢাকা ভূমি ও সারা বছর জমে থাকা বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে ভূমিধস, পাথর ও বরফের খণ্ড নিচে নেমে আসার আশঙ্কা বাড়ছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে উঁচু পার্বত্য এলাকাতেও বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যেখানে আগে সাধারণত তুষারপাত হতো। এতে পাহাড়ের ঢাল ধসে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। পাশাপাশি হিমবাহ গলে হ্রদগুলোর পানির পরিমাণ বাড়ছে। একপর্যায়ে পানির চাপ সামলাতে না পেরে এসব হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হতে পারে। নেপালে ১৯৪০ সাল থেকে এ ধরনের প্রায় ৩০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটির ওপর তৈরি হওয়া চাপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে নেপালের ভূমিকা সামান্য হলেও এর পরিণতি দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে। প্রতিটি বড় দুর্যোগ বছরের পর বছর ধরে করা উন্নয়নকাজ নষ্ট করে দিতে পারে এবং ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়।

তিস্তা নদীর তীরে রংপোতে হড়পা বানের জেরে ধ্বংসস্তূপে ঢাকা নির্মাণকাজে ব্যবহৃত গাড়ি দেখা যাচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে একটি হিমবাহসৃষ্ট হ্রদ মধ্যরাতের কিছু পরেই বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসার পর ঘরবাড়ি ও সেতু ভেসে যায়।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্বত্য ভূগোল বিশেষজ্ঞ এল্টন বায়ার্স মনে করেন, এ গবেষণা উন্নত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে না। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বসতি ও অবকাঠামোর কারণে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা রয়েছে।

নেপাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক সূর্য রাজ আচার্যের মতে, নদীর তীরবর্তী নিচু ও সমতল জমিতে সড়ক, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, হোটেল ও বাজার গড়ে তোলা সহজ হওয়ায় এসব এলাকায় দ্রুত নির্মাণকাজ হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি এবং নদীর তীর থেকে নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম মানা হয়নি। হিমালয়ের মতো সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রে আরও কঠোর পরিকল্পনা ও নির্মাণবিধি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

নেপালের কর্মকর্তারা ঝুঁকি কমাতে নতুন বিধিনিষেধের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া-ভোটেকোশি এলাকায় নদীর তীর থেকে ১৫ মিটারের মধ্যে বসতি স্থাপনে শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। অন্য নদী উপত্যকাগুলোতেও একই ধরনের নিয়ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার প্রধান নির্বাহী ধর্ম রাজ উপ্রেতি বলেন, অনেক মানুষের জমি ও সম্পত্তির সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক থাকায় তাদের সরিয়ে নেওয়া কঠিন। তবে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

ভারতের উত্তরাখণ্ডেও অপরিকল্পিত নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পরিবেশকর্মী অনুপ নওটিয়ালের অভিযোগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পর্যটন সম্প্রসারণের নামে পরিবেশ সুরক্ষার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করা হচ্ছে। নদীর তীরে বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

ভারতের হিমালয় পার্বত্য রাজ্য উত্তরাখণ্ডের দেবপ্রয়াগে দুটি নদীর জল এসে মিলেছে। সঙ্গমস্থলের ওপরে খাড়া, পাথুরে পাহাড়ের ঢালে গড়ে উঠেছে রঙিন ভবন। চারপাশে এবড়োখেবড়ো পাহাড়ে ঘেরা নদী দুটি একটি সরু উপত্যকার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। উপত্যকার ঢালে রয়েছে মন্দির, বাড়িঘর ও সড়ক।

তবে উত্তরাখণ্ড সরকার গত ১২ অক্টোবর বন্যাপ্রবণ এলাকায় জমির ব্যবহার ও নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা অনুমোদন করেছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যার সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে মানুষের জীবন, সম্পদ ও জরুরি অবকাঠামো রক্ষা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখাই এ বিধিমালার উদ্দেশ্য।

ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ অধ্যয়ন কেন্দ্রের পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারীর মতে, হিমালয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী এলাকাগুলোকে উচ্চ, মাঝারি ও কম ঝুঁকির শ্রেণিতে ভাগ করে বিমার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে তুলনামূলক নিরাপদ এলাকায় বাড়ি নির্মাণে মানুষ উৎসাহিত হবেন এবং বিমা সুরক্ষাও বাড়বে।

তবে নতুন বিধিনিষেধ ও ঝুঁকি মোকাবিলার উদ্যোগ সত্ত্বেও হিমালয় অঞ্চলে নির্মাণকাজের গতি কমার লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

ভোরের আকাশ/আ.র

শেয়ার করুন: