শিরোনাম
বৈশ্বিক পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকেরঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতাপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সমঝোতা, ২ অনুদান চুক্তি ও অভিপ্রায়পত্র সইতত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন১ সপ্তাহের মধ‍্যে গার্মেন্টস শিল্পে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীউন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরবৈশ্বিক পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকেরঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত, এমডির হাতে একক ক্ষমতাপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪ সমঝোতা, ২ অনুদান চুক্তি ও অভিপ্রায়পত্র সইতত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন১ সপ্তাহের মধ‍্যে গার্মেন্টস শিল্পে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীউন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দিতে চায় ইরান, যুদ্ধের মূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধে আরেক দফা সংঘাত এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।

তবে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং ভবিষ্যতে নতুন হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা ছাড়া কোনও সমঝোতায় যেতে রাজি নয় তেহরান।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের ওপর নিজেদের প্রভাবকে দর-কষাকষির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান।

মঙ্গলবার চীন জানিয়েছে, উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করতে শিগগিরই ওই অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বিশেষ দূত পাঠাবে বেইজিং।

এর আগে সোমবার সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত আগস্টে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করা এই তিন দেশ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের লক্ষ্য কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়; বরং এমন প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার হামলা চালাতে না পারে।

‘দ্য ইরান পডকাস্ট’-এর উপস্থাপক নেগার মোর্তাজাভি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, ইরানের অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং ভবিষ্যতে হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর মতো প্রতিরোধ নিশ্চিত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা
তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ভবিষ্যতে নতুন হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা দাবি করছে। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইরান। তবে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আগে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও কিছু বিষয়ে ছাড় চায় ওয়াশিংটন।

ইরানের অনাস্থার পেছনে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওমানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। এর আগে ২০২৫ সালের জুনেও ইসরায়েলের শুরু করা ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দিয়েছিল।

চলতি বছরের জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরুর পথ তৈরিতে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল। কিন্তু দুই পক্ষের হামলা পুনরায় শুরু হলে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির গবেষক সিনা তুসি বলেন, আগের আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি ইরানকে নতুন হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে পারেনি। এ কারণে তেহরান এখন আরও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী নিশ্চয়তা চাইছে।

নির্বাচনও প্রভাব ফেলছে হিসাব-নিকাশে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইসরায়েলের নির্বাচনও ইরানের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ মার্কিন রাজনীতিতে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।

রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন মাত্র ৩৪ শতাংশ। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও খুব সামান্য। নির্বাচনে দলটি খারাপ করলে যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের স্বাধীনতা আরও সীমিত হতে পারে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনে পরাজিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ হামলা পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ জটিল হতে পারে। তবে বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট ক্ষমতায় এলেও ইরানের বিষয়ে ইসরায়েলের নীতি নমনীয় হবে- এমন নিশ্চয়তা নেই।

হরমুজ প্রণালিই ইরানের বড় হাতিয়ার
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এ পথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরানের সক্ষমতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে হরমুজের আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে ইরানের ট্যাংকারে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা হামলার ঘটনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধের আগে দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার।

আরও পড়ুন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে, বিকল্প নেই: সালাহউদ্দিন

বিশ্লেষক ক্রিস বিউচ্যাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী চাপের লড়াইয়ে ইরান অর্থনৈতিক ক্ষতিকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় চলমান উদ্যোগের লক্ষ্য আপাতত উত্তেজনা কমিয়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করা। তবে ইরানের দাবি, সাময়িক বিরতি নয়- নতুন হামলার আশঙ্কা দূর করে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতে হবে। ওয়াশিংটনের প্রতি গভীর অনাস্থা এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার অবস্থান থেকে তেহরান এখনই সরে আসতে রাজি নয়। সূত্র: আল-জাজিরা

ভোরের আকাশ/এনএস

শেয়ার করুন: