রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ শপথ নিলেন মিন অং হ্লাইং

মায়ানমারে অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল মিন অং হ্লাইং দেশটির নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানী নেপিডোতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘মায়ানমার গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে এবং একটি উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, দেশটিকে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে।
গত সপ্তাহে সামরিকপন্থী সংসদে ভূমিধস বিজয়ের পর মিন অং হ্লাইং সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হন।
এই পদে মোট তিনজন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে তিনি নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দুইজন উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।
৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করেন।
এর পরেই শুরু হয় গৃহযুদ্ধ এবং মায়ানমারকে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে দেয়। এই অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে অসহযোগ আন্দোলন এবং সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। এর জবাবে সেনাবাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালায়। ফলে মায়ানমার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান থেকে বহিষ্কৃত হয়।
শুক্রবার দেওয়া ভাষণে মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘তারা আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চান এবং স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করবেন। এএফপি সূত্রে জানা গেছে, ওই দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ মোট ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।’
গণতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো মিন অং হ্লাইংয়ের নির্বাচনকে প্রহসন বলে আখ্যা দিয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সংসদীয় নির্বাচনের পর মিন অং হ্লাইং শীর্ষ জেনারেল তার পদ তেকে পদত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী-সমর্থিত একটি দল ভূমিধস বিজয় লাভ করে, যাকে সমালোচক এবং পশ্চিমা সরকারগুলো একটি প্রহসন হিসেবে আখ্যা দিয়ে উপহাস করেছে।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত এবং ভোট বর্জনকারী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভোটগ্রহণ হয়নি। এতে মিন অং হ্লাইংয়ের জনসমর্থনের ভিত্তি আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এদিকে গত পাঁচ বছর ধরে মায়ানমারকে জর্জরিত করে রাখা গৃহযুদ্ধ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। অং সান সু চির দলের অবশিষ্ট অংশ এবং দীর্ঘদিনের জাতিগত সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোসহ সেনাবাহিনী বিরোধী শক্তিগুলো একত্র হয়ে একটি নতুন সম্মিলিত ফ্রন্ট গঠন করছে।
তবে এই সংঘাতের মানবিক মূল্য অত্যন্ত ভয়াবহ। আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি-এর তথ্য অনুযায়ী, ৯৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের হিসাব বলছে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তত ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র