শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নেপালে আকস্মিক বন্যা গ্রামের পর গ্রাম নিশ্চিহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। তেমনই একটি গ্রামের ভয়াবহ পরিণতির দৃশ্য ধরা পড়ল হেলিকপ্টার থেকে ক্যামেরাবন্দি ছবিতে। চীন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলে এই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। তীব্র স্রোত ভোটেকোশি এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলোর ওপর আছড়ে পড়ে। বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায় নিমেষে।

নেপাল এবং তিব্বতের হিমালয়-সংলগ্ন সীমান্ত অঞ্চলে সেই আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২৮৯ জন নিহত হয়েছেন। খোঁজ মিলছে না অন্তত ১ হাজার ৩৮৪ জনের, যাদের মধ্যে ৮০০ জনই বিদেশি নাগরিক। নেপালের পর্যটন মন্ত্রকের মতে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতের নাগরিক ছিলেন। বাকিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া নাগরিকেরাও রয়েছেন। তাদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণে ভারতের কিছু এলাকাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সীমান্তের উভয় প্রান্তের কর্মকর্তারা বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিভিন্ন জেলায় বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নেপালে উদ্ধারকাজ চলাকালীন আকাশ থেকে ক্যামেরাবন্দি একটি ভিডিয়োয় ভয়াবহ পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, হড়পা বানে নেপালের একাধিক গ্রাম এখন কেবল কাদামাখা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)’-এর নেপাল শাখার প্রধান ডেভিড ফিশার বলেন, “অনেক গ্রাম এবং বাজার এলাকা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।”

আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অনেককে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে নেপালি সেনাবাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নদীর তীরে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকবলিত এলাকায় বন্যার জলে বহুতল ভবনগুলিও তলিয়ে যাওয়ার কারণে উদ্ধারকর্মীরা বেঁচে যাওয়া মানুষদের সন্ধানে কাদা ও পলি ঘেঁটে চলেছেন।

নেপালে হড়পা বানের ভয়াবহতা ফুটে ওঠা বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। নেপালি পুলিশের শেয়ার করা ছবিতে দেখা গিয়েছে, নদীর প্রবল স্রোত ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলা মৌসুমি বৃষ্টিপাত দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে প্রায়শই প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ২৮৯; নিখোঁজ ১,৩৮৪

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির ঘটনাগুলোর হার এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাঠমান্ডু-ভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি)’-এর জলবায়ু এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বিষয়ের প্রধান কিয়াংগং ঝাং দ্বিতীয় বার বন্যা হওয়ার আশঙ্কার বিষয়েও সতর্ক করেছেন।

অন্য দিকে, চিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তিব্বত সীমান্তের গিরং এলাকাতেও ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির খবর জানিয়েছে। ভূমিধসের কারণে তিন জন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: