যুক্তরাজ্যে ঝড়ের তাণ্ডব, ৮২ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন

যুক্তরাজ্যে আঘাত হানা প্রবল ঝড় 'বোয়েলো'-র তাণ্ডবে স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং উত্তর ইংল্যান্ডের ৮২ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মাত্র দুদিনের ব্যবধানে যুক্তরাজ্যে আঘাত হানা এটি দ্বিতীয় কোনো নামধারী ঝড়, যার আগে শুক্রবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ঝড় 'অস্টেন' আঘাত হেনেছিল।
শনিবার রাত ৯টা থেকে কার্যকর হওয়া অ্যাম্বার সতর্কতাভুক্ত এলাকাগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে। সতর্কতার আওতায় ছিল স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশ এবং ইংল্যান্ডের সুদূর উত্তরাঞ্চল।
উপকূলের উন্মুক্ত এলাকায় বাতাসের ঝাপটার গতি ঘণ্টায় ৮০ মাইল ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইনার হেব্রিডিস দ্বীপপুঞ্জের টাইরি দ্বীপে ঘণ্টায় ৮২ মাইল বেগে বাতাস বয়ে যায়। আরগাইল ও বুটে এলাকায় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮৪ মাইল এবং স্নোডোনিয়ায় ৮৩ মাইল।
এনার্জি নেটওয়ার্কস অ্যাসোসিয়েশন (ইএনএ) রোববার সকালে জানায়, প্রকৌশলীরা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করেছেন। তবে ৮২ হাজার ৬০০ গ্রাহক তখনো বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। এর মধ্যে স্কটল্যান্ডের ৩০ হাজারের বেশি বাড়ি রয়েছে।
ইএনএ জানায়, গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করতে নেটওয়ার্ক কর্মীরা সকাল থেকেই কাজ করছেন। তবে কিছু এলাকায় প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় নিরাপদে মেরামতের কাজ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু এলাকায় প্রবেশ করাও দুরূহ হয়ে উঠেছে। ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতে প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করছেন।
রোববার ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার কারণে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রেস্টন ও ব্ল্যাকপুল নর্থের মধ্যবর্তী রেলপথ বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিজের কাছে রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে।
নেটওয়ার্ক রেল ট্রেনের নিচে পড়ে থাকা একটি ট্রাম্পোলিন ও রেললাইনের পাশে থাকা একটি শেডের ছবি প্রকাশ করেছে। রেললাইনের কাছাকাছি বসবাসকারীদের বাগানে থাকা জিনিসপত্র ভালোভাবে বেঁধে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
প্রবল বাতাসের কারণে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। ডাবলিন, হিথরো, ম্যানচেস্টার, এডিনবরা ও গ্লাসগোসহ যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত হয় অথবা বাতিল করা হয়।
আবহাওয়া দপ্তর ঝড়কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের বাগানে থাকা আলগা জিনিসপত্র নিরাপদে রাখার এবং ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষ ও আছড়ে পড়া ঢেউয়ের কারণে প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
আবহাওয়া দপ্তরের প্রধান পূর্বাভাস কর্মকর্তা জেসন কেলি বলেন, সপ্তাহান্তে পুরো যুক্তরাজ্যেই ঝড় বোয়েলোর প্রভাব অনুভূত হবে। সবচেয়ে শক্তিশালী বাতাস ও বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা উত্তরাঞ্চলে।
তিনি বলেন, স্কটল্যান্ডের মূল ভূখণ্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশ এবং ইংল্যান্ডের সুদূর উত্তরাঞ্চলে অ্যাম্বার সতর্কতা জারি রয়েছে। এসব এলাকায় ব্যাপকভাবে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ মাইল বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। উপকূলের উন্মুক্ত স্থানে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৮০ মাইলেও পৌঁছাতে পারে।
রোববার সকাল ৭টার মধ্যে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কায় ৬৬টি সতর্কতা জারি করেছিল পরিবেশ সংস্থা। পাশাপাশি বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এমন ১০টি সতর্কতাও জারি করা হয়।
শুক্রবার ঝড় অস্টেনের আঘাতের পর দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের শত শত বাড়ি তখনো বিদ্যুৎবিহীন ছিল। ঝড়টির কারণে আইলস অব সিলির সেন্ট মেরিজ বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ৭৬ মাইল বেগে বাতাস বয়ে যায়। দক্ষিণ ওয়েলসের অ্যাবারপর্থে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৭৪ মাইল এবং কর্নওয়ালের কালড্রোজে ৭১ মাইল।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সপ্তাহান্তে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। ভিজিট লিভারপুল জানিয়েছে, আলোকসজ্জার শিল্পকর্ম নিয়ে আয়োজিত ‘রিভার অব লাইট’ অনুষ্ঠানটি নিরাপত্তার স্বার্থে বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাধীন স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে রোববার লন্ডনের বার্ষিক ‘দিওয়ালি অন দ্য স্কয়ার’ উদযাপনও বাতিল করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র