শিরোনাম
ঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদি আরবের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- সংগৃহীত
ছবি- সংগৃহীত

সৌদি আরব বর্তমানে চলমান ইরান-বিরোধী হামলা আরও জোরদার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালো আহ্বান জানিয়েছে এবং দেশটি সরাসরি এই যুদ্ধে যোগ দেবে কি না তা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সৌদি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেতা ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত না করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

যুবরাজ এই মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে মধ্যপ্রাচ্যের পুনর্গঠনের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন। গত মঙ্গলবার ট্রাম্পও পরোক্ষভাবে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেছেন, যুবরাজ একজন সত্যিকারের যোদ্ধা এবং তিনি আমেরিকার পাশেই আছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সৌদি গোয়েন্দা সূত্রটি জানিয়েছে, রিয়াদ কেবল এই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই নয়, বরং এর তীব্রতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। যদিও চার সপ্তাহের এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন পাকিস্তানের নেতৃত্বে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে রিয়াদ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

সৌদি ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলহামেদ জানিয়েছেন, সৌদি আরব কোনো আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যদি ইরান সমঝোতার শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে সৌদি আরব চূড়ান্ত ও নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তেহরানের পাল্টা আঘাতের অংশ হিসেবে সৌদি আরব ইতিমধ্যে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে লোহিত সাগর উপকূলে ইয়ানবুতে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন আঘাত হেনেছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো বিপাকে পড়লেও লোহিত সাগরের পাইপলাইন ব্যবহার করে সৌদি আরব এখনো তাদের রপ্তানি সচল রাখতে পেরেছে। তবে ইয়ানবুতে হামলার মাধ্যমে ইরান মূলত সৌদি আরবের এই বিকল্প অর্থনৈতিক করিডোরকেও হুমকির মুখে ফেলার বার্তা দিয়েছে। এছাড়া ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যদি এই যুদ্ধে সরাসরি ইরানের পক্ষে যোগ দেয়, তবে সৌদি আরবের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে সুন্নি ও শিয়া বিশ্বের নেতৃত্ব নিয়ে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান। ২০০৮ সালে এক ফাঁস হওয়া তারবার্তায় তৎকালীন বাদশা আবদুল্লাহ ইরানকে ‘সাপের মাথা’ হিসেবে অভিহিত করে তা কেটে ফেলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিয়াদ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অতর্কিত হামলা পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে মোড় দিয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ হিশাম আলঘান্নাম মনে করেন, সৌদি আরব এখনো এক ধরনের ‘সতর্ক নিরপেক্ষতা’ বজায় রাখছে। তবে হুথিরা যদি বড় ধরনের কোনো আঘাত হানে, তবে রিয়াদ রক্ষণাত্মক জোটের সমর্থন নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষক এলি গেরানমায়েহ মনে করেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত কয়েক বছর ধরে ট্রাম্প প্রশাসন এবং তাঁর পরিবারের ওপর যে বিশাল বিনিয়োগ করেছিলেন, তার ফলাফল এখন সংকটের মুখে। একদিকে ইরানের সঙ্গে চীনের মধ্যস্থতায় সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি, কারণ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান সৌদি স্থাপনায় হামলা চালানো বন্ধ করেনি।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যে ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এক কঠিন দোটানার মুখে রয়েছে; তারা একদিকে যেমন আমেরিকার নিরাপত্তা বলয় থেকে সরতে পারছে না, তেমনি লোহিত সাগরের পাইপলাইন রক্ষা করতে গিয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকিও এড়াতে পারছে না।

ভোরের আকাশ/আ.র

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

শেয়ার করুন: