অর্থনৈতিক লাভেই যুদ্ধ শেষ করতে চাইবে ইরান: বিশ্লেষক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান এ যুদ্ধ ইরান নিজের ‘শর্ত অনুযায়ী’ শেষ করতে চাইবে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র নন-রেসিডেন্ট ফেলো নেগার মোর্তাজাভি। এ যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বলেও মনে করেন তিনি।
মোর্তাজাভি বলেন, ইরানের প্রথম লক্ষ্য হলো এমন এক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গত বছরের মতো পরিস্থিতি আবার ফিরে না আসে। তারা চায় না গাজা, লেবানন বা সিরিয়ার মতো পরিস্থিতির শিকার হতে।
তারা চায় না যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে বারবার এসে তাদের ওপর হামলা চালাক।
প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ার পাশাপাশি ইরানের জন্য ‘অর্থনৈতিক লাভ’ থাকাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন এই বিশ্লেষক।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নতুন চিন্তার খোরাক দিচ্ছে। ইরানের ভেতরে আলোচনা চলছে যে, বিশ্বের অন্যান্য জায়গার মতো তারাও হয়ত এখান দিয়ে যাতায়াতের জন্য ফি আদায় করতে পারে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ পুনর্গঠনে ক্ষতিপূরণের দাবিও ইরানের পক্ষ থেকে আসতে পারে বলে মনে করেন মোর্তাজাভি।
জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প হয়ত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছেন। কিন্তু ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র এফফি ডেফ্রিন জানিয়েছেন, তাদের যুদ্ধ পরিকল্পনা ‘অপরিবর্তিত’ রয়েছে। তিনি জানান, অস্তিত্ব রক্ষার হুমকি দূর করতে তারা আক্রমণ অব্যাহত রাখবেন।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে আরও বড় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করছে বলে মনে হচ্ছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সেখানে ইতোমধ্যে ৫০ হাজার মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আল জাজিরার মোহাম্মদ ভ্যালের মতে, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে বলে ট্রাম্পের করা মন্তব্য ইরানে এক ধরনের ‘বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতা’ তৈরি করেছে। দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে একটি হামলা হয়েছে, তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার ইসরায়েলে ইরানি হামলায় এক শিশুসহ সাতজন আহত হয়েছে। ইরান তাদের রকেট হামলার গতি বাড়িয়েছে, যার ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ ইসরায়েলিকে একাধিকবার আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ইসরায়েলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
ভোরের আকাশ/আ.র