পশ্চিমবঙ্গে গির্জা নির্মাণে বিরোধ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৩ যুবক আটক

পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে নির্মাণাধীন একটি গির্জায় ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় খ্রিস্টান পরিবারের অভিযোগ, গির্জার দরজা, তালা, দুটি স্তম্ভ ও তিনটি ক্রস ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনারপুর থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা চম্পা ভুঁইয়া বলেন, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শাঁখা-পলা ও সিঁদুর পরেন। ২০১৭ সাল থেকে তারা ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তার দাবি, তারা দরিদ্র মানুষ হলেও অর্থের বিনিময়ে কাউকে ধর্মান্তর করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় প্রায় ৫০টি খ্রিস্টান পরিবারের বসবাস রয়েছে। এর আগে তারা ভাড়া করা একটি কক্ষে প্রার্থনা করতেন। পরে জমি কিনে চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রেসবিটারিয়ান চার্চ অব ইন্ডিয়ার অধীনে নতুন গির্জা নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
গির্জার সদস্য গীতা হালদার জানান, নিকটবর্তী গির্জা সোনারপুর শহরে হওয়ায় স্থানীয়ভাবে একটি ছোট গির্জা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তার বক্তব্য, কারও আপত্তি থাকলে আগে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো উচিত ছিল, হামলা করা নয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ৩ যুবককে আটক করে। স্বপন পুরকাইতের অভিযোগের ভিত্তিতে সোনারপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে গির্জার দরজা, তালা, দুটি স্তম্ভ ও তিনটি ক্রস ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, সম্পত্তি নষ্ট করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
বারুইপুর পুলিশ জেলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।
অন্যদিকে, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সোনারপুর শাখার সমন্বয়ক কৌশিক মুখার্জী দাবি করেন, স্থানীয় হিন্দুদের অভিযোগ ছিল সেখানে ধর্মান্তর কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল এবং অবৈধভাবে গির্জা নির্মাণ করা হচ্ছিল। তার দাবি, এসব বিষয়ে জানতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কিছু ব্যক্তি গির্জার ক্ষতি করেন। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে আগে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ভোরের আকাশ/সু.পা