ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির বিস্তারিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রোববারই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তার এই বক্তব্যের পর তেহরান সফর করেছে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল, যা কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোববার (১৪ জুন) ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়ায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের তেলের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরপরই সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদন না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের ওপর থেকে মার্কিন ও জাতিসংঘের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।
খসড়ায় ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিথিল করার বিষয়ও রয়েছে। এর ফলে তেহরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করে আয় গ্রহণ করতে পারবে।
ইরানি কর্মকর্তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করতেও সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তার একটি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ পরিকল্পনা পরবর্তীতে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নীতিতে সম্মত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।
এ ছাড়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এসব বিষয়ে পরবর্তী আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সম্ভাব্য এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। সূত্র: রয়টার্স
ভোরের আকাশ/সু.পা