পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে চলছে দমন-পীড়ন, জাতিসংঘের সতর্কতা

পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (পিওজেকে) আসন্ন আইনসভা নির্বাচনের আগে বাড়তে থাকা অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এ সময় সতর্ক করে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে সংযম প্রদর্শন, মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।
আগামী ২৭ জুলাই পিওজেকে আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে চলমান বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কারণে অঞ্চলটির পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। এ অবস্থায় শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভোটের আগে সবাইকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন ভলকার তুর্ক।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, জুন মাস থেকে চলমান বিক্ষোভে প্রতিবাদকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এসব ঘটনার দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি বিক্ষোভকারী হোন বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এছাড়া জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে (জেকেজেএএসি) সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করার পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভলকার তুর্ক।
ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি চলমান আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টির অভিযোগে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এর কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, একটি নাগরিক সমাজভিত্তিক আন্দোলনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং জনসমাবেশের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সংগঠন গঠনের অধিকারের লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করছে।
ভলকার তুর্ক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে আটক জেকেজেএএসি নেতাদের অবিলম্বে আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও ন্যায্য বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্য আদান-প্রদানের অধিকারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে। তাই পুরো অঞ্চলে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
ভোরের আকাশ/এনউব