যুদ্ধবিরতির চাপের মধ্যেও উত্তর গাজায় বড় হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েলের

যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত থাকলেও উত্তর গাজায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। গাজা সিটি ও জাবালিয়ার বাসিন্দাদের দক্ষিণের উপকূলীয় এলাকা আল-মাওয়াসিরে সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "অভিযান পশ্চিমাঞ্চলে আরও বিস্তৃত ও তীব্র হবে।"
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৬ জন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন রয়েছেন, যাদের মৃত্যু হয়েছে তথাকথিত "নিরাপদ" অঞ্চল আল-মাওয়াসিরে।
নিহত শিশুদের বাবা জিয়াদ আবু মারুফ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন,“ইসরায়েলের নির্দেশ মেনেই এক মাস আগে এই এলাকায় এসেছিলাম। অথচ এখানেই আমাদের সন্তানদের হারালাম।”
তার স্ত্রী ইমান আবু মারুফ বলেন, “মাটিতে ঘুমিয়ে থাকাকালীন আমাদের ওপরই বোমা ফেলা হয়।”
এই হামলার ঘটনা ঘটছে এমন এক সময়, যখন মধ্যস্থতাকারীরা হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির বিষয়ে নতুন আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের আহ্বান জানিয়েছেন, গাজায় চুক্তি সম্পন্ন করে “জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা” হোক। তবে হামাসের এক ঊর্ধ্বতন নেতা বিবিসিকে জানিয়েছেন, “বর্তমানে আলোচনা স্থগিত রয়েছে।” কাতার এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে এবং তারা আশা করছে—যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই চুক্তি অর্জন সম্ভব হতে পারে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি মামলাটিকে “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” বলে উল্লেখ করে বলেছেন, “এটি যুদ্ধবিরতির আলোচনাকেও বিলম্বিত করছে।”
তবে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এ মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ অনুচিত।”
গাজায় মানবিক সংকটও দিন দিন বাড়ছে। মার্চ মাসে ইসরায়েল গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে, যা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১১ সপ্তাহ পর আংশিক শিথিল করা হয়। এরপর ‘ইসরায়েল-সমর্থিত’ গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) এর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা হয়। তবে জাতিসংঘ এই ব্যবস্থার সমালোচনা করেছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর মুখপাত্র জুলিয়েট টুমা বলেন, “এই নতুন ত্রাণ ব্যবস্থা একটি মৃত্যুপুরীর মতো। শুধুমাত্র জাতিসংঘ এবং মানবিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমেই সাহায্য সঠিকভাবে পৌঁছানো সম্ভব।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার জবাবে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ওই হামলায় প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে হামাস। এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ।
ভোরের আকাশ//হ.র