পে স্কেল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিএডিসির বেতন গ্রেডে কাটছাঁট

কৃষির অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ সরবরাহ ও সেচ সুবিধা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড কমানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর দিলকুশায় বিএডিসির প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশের বিভিন্ন কার্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের গত ৩১ আগস্ট জারি করা পরিপত্রে বিএডিসির ৯১টি ক্যাটাগরির ৪ হাজার ৬৯৯টি পদের বেতন গ্রেড ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নির্ধারিত বিভিন্ন পদের বেতন গ্রেড এক ধাপ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
বিএডিসি সূত্রে জানা যায়, কৃষির জন্য মানসম্পন্ন বীজ, নন-ইউরিয়া সার ও সেচ সুবিধা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। প্রতি উৎপাদন মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের গড়ে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানি করে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বিতরণ ও মজুদের ব্যবস্থা করা হয়।
সেচ ব্যবস্থাপনায় ভূউপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতেও বিএডিসি বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও পাটবীজের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল-নালা পুনঃখননের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএডিসিকে প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার খাল-নালা পুনঃখননের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় গত অর্থবছরে প্রায় ৮৫৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। বিএডিসির অনুমোদিত জনবল ৬ হাজার ৮০০ হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন। এর মধ্যে বেতন গ্রেড কমানোর সিদ্ধান্তে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি, সংস্থাটির বেতন গ্রেড অবনমনসহ নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে আরোপ করা নতুন শর্তগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, দাবি আদায় না হলে পর্যায়ক্রমে আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিপত্র বাতিল না হলে দেশের সব কার্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। পরে ১৯৭৬ সালে এর নাম বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) করা হয়। দেশের কৃষি উন্নয়ন ও সবুজ বিপ্লবে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন আদেশে নিয়োগযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত অনুযায়ী বিএডিসির নিয়োগবিধি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধিমালা চূড়ান্ত করার আগে অর্থ বিভাগের মতামত ও সম্মতি এবং প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদন নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগের ১৪ জানুয়ারির আদেশটি বাতিল করা হলেও নতুন আদেশে বিএডিসির অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন গ্রেড এক ধাপ কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/জেআ