মিরাজকে সরিয়ে লিটনের কাঁধে ওয়ানডের দায়িত্ব

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের এক বছর আগে এই ফরম্যাটের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে লিটন দাসকে। ২০২৫ সালের ১২ জুন ওয়ানডে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মিরাজ। ১৩ মাসের বেশি সময়ের দায়িত্বে জয় ও পরাজয়—দুই অভিজ্ঞতাই হয়েছে এই অলরাউন্ডারের।
মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ১০টিতে জয় পেয়েছে টাইগাররা, হেরেছে ১৩ ম্যাচে। একটি ম্যাচে সুপার ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। মিরাজের সময়ে দলের জয়ের হার ছিল ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
তবে দেশের বাইরে মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। তার অধীনে বিদেশের মাটিতে ১৩ ম্যাচ খেলে জয় এসেছে মাত্র দুটি। বাকি ১১ ম্যাচের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের কাছে ৩-০ ব্যবধানে পরাজয় এবং সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার রয়েছে।
মিরাজ ওয়ানডে নেতৃত্ব পেয়েছিলেন অনেকটা আকস্মিকভাবে। আগের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ছাড়াই তাকে সরিয়ে মিরাজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। জিম্বাবুয়ে সফরে দলের ব্যর্থতার পর তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই শুরু হয় অধিনায়ক পরিবর্তনের আলোচনা। নতুন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বোর্ড সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
মিরাজের নেতৃত্ব হারানোর অন্যতম কারণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি সামনে এসেছে। পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে তার ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্স নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
অধিনায়ক হওয়ার পর ২৪ ম্যাচে ২১ ইনিংস ব্যাট করে মিরাজ করেছেন ৪৯০ রান। তার ব্যাটিং গড় ছিল ২৭ দশমিক ২২ এবং স্ট্রাইক রেট ৭১ দশমিক ৩২। এ সময়ে তিনি চারটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন, যার মধ্যে প্রথম চার ম্যাচেই ছিল তিনটি ফিফটি।
বোলিংয়ে অবশ্য মিরাজ ছিলেন কার্যকর। ২৪ ইনিংসে নিয়েছেন ২৪ উইকেট। তার ইকোনমি রেট ছিল ৪ দশমিক ৪২। তবে আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে শুধু বোলিংয়ের ওপর নির্ভর করে দলে জায়গা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ওয়ানডে দলে ফেরাও বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ব্যাট হাতে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। জিম্বাবুয়ে সিরিজে খুব ভালো না খেললেও দলে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন তিনি। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিরাজকে এক বছরের জন্য অধিনায়ক করা হয়েছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শেষ হলো তার ওয়ানডে নেতৃত্বের অধ্যায়।
ভোরের আকাশ/সু.পা