বিশ্বকাপ বিতর্কে বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে আর্জেন্টিনা সরকার

বিশ্বকাপ ঘিরে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ ওঠার পর এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। আর্জেন্টিনা কিংবা দেশটির নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বিদেশিদের নিষিদ্ধ বা বহিষ্কারের সুযোগ রেখে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সরকার।
তবে অধ্যাদেশটির প্রয়োগযোগ্যতা ও আইনি প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফরাসি নেটওয়ার্ক রেডিও মন্তে কার্লোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অধ্যাদেশ এমন বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে, যারা মৌখিক বা লিখিত যেকোনো মাধ্যমে ঘৃণামূলক বার্তা ছড়ায় অথবা আর্জেন্টিনার জনগণ কিংবা জাতীয়তার কারণে কোনো আর্জেন্টাইন নাগরিকের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেয়।
সরকার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, এটি ‘আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্র ও আর্জেন্টাইনদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক প্রদর্শনের’ প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য এবং লিওনেল মেসিদের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে নানা সমালোচনা দেখা যায়। এ বিষয়ে সরব হন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।
তিনি অভিযোগ করেন, আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করেছে ব্রাজিল সরকার। তার দাবি, এই প্রচারণার ২৫ শতাংশ অর্থ ব্রাজিল সরকার দিয়েছে। এ ছাড়া মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও এতে অর্থায়ন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি মিলেই।
মিলেই সরকারের জারি করা এই অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। ‘প্রয়োজনীয়তা ও জরুরি অধ্যাদেশ’ হিসেবে এটি প্রথমে সংসদীয় কমিটিতে পর্যালোচনা করা হবে। এরপর চেম্বার অব ডেপুটিজ ও সিনেটে পাঠানো হবে। উভয় কক্ষ একযোগে প্রত্যাখ্যান না করলে এটি কার্যকর থাকবে।
তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা অধ্যাদেশটির ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সেন্টার ফর লিগ্যাল অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিসের (সিইএলএস) আন্তর্জাতিক মামলাবিষয়ক আইনজীবী লুসিয়া গালোপো বলেছেন, এর ভাষা অস্পষ্ট। কারণ এতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা এবং তা প্রমাণের নির্দিষ্ট পদ্ধতি উল্লেখ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে অধ্যাদেশটির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা