১০ জনে খেলেও ইংল্যান্ডের জয়, বিদায় মেক্সিকো

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয় ম্যাচটি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিক মেক্সিকো। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার সুযোগে পাল্টা আক্রমণে ভয়ংকর হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থমাস টুখেলের দল। নাটকীয় দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল করে ইংলিশরা, যদিও লাল কার্ডের কারণে দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় ৩-২ গোলের হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মেক্সিকো।
এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর অভিযান শেষ হয়ে গেল। শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলতে দেশটিতে পৌঁছানোর পর থেকেই ইংল্যান্ড দলকে বিরূপ পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। স্বাগতিক সমর্থকদের দুয়ো, যাত্রাপথে অনুসরণ এবং দলীয় হোটেলের বাইরে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনার খবরও ছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থায় বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল মেক্সিকো। ৬৭ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তারা ১৯টি শট নেয়, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড মাত্র পাঁচটি শট নিয়েই চারটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় এবং সেখান থেকেই তিনটি গোল আদায় করে নেয়। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম, পরে পেনাল্টি থেকে দলের তৃতীয় গোলটি করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
মেক্সিকোর হয়ে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান কমান দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হুলিয়ান কুইনোনেস। এরপর ৫৪তম মিনিটে হেসুস গায়ার্দোকে বিপজ্জনক ট্যাকল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসা। ফলে ম্যাচের বাকি সময়ের বড় অংশ ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় ইংলিশদের।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগানোর চেষ্টা চালায় মেক্সিকো। পরে কেইনের ফাউলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে রাউল হিমেনেজ গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি স্বাগতিকদের।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম চার ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়া মেক্সিকোর রক্ষণভাগ এদিন বেলিংহ্যামের সামনে অসহায় ছিল। ম্যাচের ৩৫ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার পর মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুইবার জাল খুঁজে নেন ইংলিশ মিডফিল্ডার, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল মেক্সিকো। এবার শেষ ষোলো পর্যন্ত উঠলেও ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন পূরণ হলো না। বরং বিশ্বকাপে এটি টানা নবমবারের মতো শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে ব্যর্থ হলো ‘এল ত্রি’।
এদিকে ১৯৬৬ সালে উদ্বোধনের পর আজতেকা স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে এটি মেক্সিকোর মাত্র তৃতীয় পরাজয়। এর আগে ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কোস্টারিকা এবং ২০১৩ সালে হন্ডুরাসের কাছে একই ব্যবধানে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে।
ভোরের আকাশ/সু.পা