জানুন আবেগঘন সেই গল্প
দুই বন্ধুর নামে রাখা হয়েছিল লামিন ইয়ামালের নাম!

স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামাল এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম। তবে তার নামের পেছনে লুকিয়ে আছে এক আবেগঘন মানবিক গল্প, যা খুব কম মানুষই জানেন।
স্প্যানিশ রীতি অনুযায়ী, তার পূর্ণ নাম লামিন ইয়ামাল নাসরাউই এবানা। এখানে ‘নাসরাউই’ এসেছে বাবা মুনির নাসরাউইয়ের নাম থেকে এবং ‘এবানা’ এসেছে মা শিলা এবানার নাম থেকে।
‘লামিন’ শব্দটি আরবি আল-আমিন থেকে এসেছে, যার অর্থ বিশ্বস্ত বা সৎ। আর ‘ইয়ামাল’ শব্দটি ‘জামাল’-এর একটি রূপ, যার অর্থ সৌন্দর্য।
তবে এই নাম শুধু অর্থের কারণেই নয়, কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবেও রাখা হয়েছিল।
জানা যায়, ইয়ামালের জন্মের সময় তার মা শিলা এবানার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। চরম অর্থকষ্টে থাকা পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আর্থিক ও মানসিকভাবে তারা নবদম্পতিকে সহযোগিতা করেছিলেন। সেই দুই বন্ধুর নাম ছিল লামিন ও ইয়ামাল। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই সন্তানের নাম রাখা হয় লামিন ইয়ামাল।
এরপরের গল্প যেন রূপকথা। মাত্র ১২ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। এরপর বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেক, স্পেনের হয়ে ইউরো জয় এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তরুণ তারকায় পরিণত হন ইয়ামাল।
অভিবাসী অধ্যুষিত দরিদ্র এলাকা রোকাফোন্ডা থেকেই উঠে এসেছেন এই বিস্ময়বালক। গোল করার পর আঙুল দিয়ে ‘৩০৪’ সংখ্যা দেখিয়ে তিনি এখনো নিজের এলাকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। এটি তার এলাকার পোস্টকোডের শেষ তিনটি সংখ্যা।
এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেছিলেন, “আমার মা ১৬ বছর বয়সে আমাকে জন্ম দিয়েছেন। আমার বাবা পরিবারের জন্য খাবার জোগাতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কাজ করেছেন। সেই সংগ্রামের তুলনায় মাঠের চাপ আমার কাছে কিছুই নয়।”
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যখন স্পেনের জার্সিতে মাঠে নামবেন লামিন ইয়ামাল, তখন কোটি ভক্তের নজর থাকবে তার দিকে। আর তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই দুই বন্ধুর মানবিক অবদানও নতুন করে আলোচনায় আসবে।
ভোরের আকাশ/এনএ