কারাতে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

বিকেএসপির কারাতে বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসির আহমেদ জিমের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৯ জুলাই রাতে বিকেএসপি ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে মেধাবী এই কারাতেকার মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হলে বিষয়টি তদন্তে নামে মন্ত্রণালয়।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, “বিকেএসপি দেশের ক্রীড়াঙ্গনের আঁতুড়ঘর। সেখানে একজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিকেএসপিতে অবস্থানরত কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যুর এমন ঘটনা আগে শোনা যায়নি। তাই প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান (পিএসসি), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ বি এম এহছানুল মামুন এবং সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মমিনুল হাসান। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া-১ অধিশাখার উপসচিব মো. মিজানুর রহমান।
তবে বিকেএসপি-সংক্রান্ত ঘটনার তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করায় কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
বিকেএসপি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ২৮ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা থেকে দেড়টার মধ্যে অনুশীলন শেষে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের একটি দেয়াল টপকাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ইয়াসির আহমেদ জিম। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটিকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, ঘটনার সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যক্তিকে কো-অপ্ট করার ক্ষমতাও পাবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা