আক্রমণে আর্জেন্টিনা, রক্ষণে স্পেন : বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মুকুট কার?

বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা নামছে আজ। নিউইয়র্কের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মহারণের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। ৬০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের বর্তমান দুই চ্যাম্পিয়ন।
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ১৬ বছর পর ফাইনালে ফিরেছে স্পেন। তাই শিরোপার লড়াই ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
অনেকের চোখে এটি লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের দ্বৈরথ। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী মেসি, যার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে এটি। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তোলা ইয়ামাল। তবে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের বাইরে এটি আসরের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের বিপক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগেরও পরীক্ষা।
আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পথে ১৯ গোল করেছে। দলটির আক্রমণের নেতৃত্বে থাকা মেসির গোল ৮টি। অন্যদিকে স্পেন ছয় ম্যাচে ১৩ গোল করলেও হজম করেছে মাত্র একটি।
গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে হারিয়ে নকআউটে ওঠে আর্জেন্টিনা। এরপর কেপ ভার্দে, মিশর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একের পর এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও এরপর সৌদি আরব, উরুগুয়ে, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সকে হারিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাদের রক্ষণভাগ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। গোলরক্ষক উনাই সিমন এখন পর্যন্ত মাত্র একবার বল কুড়িয়েছেন জাল থেকে।
ফাইনালের আগে স্পেনকে নিয়ে যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, “স্পেন অসাধারণ একটি দল। তাদের দারুণ খেলোয়াড় আছে, খেলার ধরনও দুর্দান্ত। আমি দলটিকে খুব ভালো করেই চিনি। তারা যেভাবে খেলে, সেই ধরনের ফুটবল আমি বহু বছর খেলেছি। তাই এটি অবশ্যই একটি বিশেষ ম্যাচ, কারণ এটি বিশ্বকাপের ফাইনাল।”
অন্যদিকে স্পেন অধিনায়ক রদ্রি বলেছেন, “আমরা জানতাম এই প্রজন্ম ইতিহাস গড়তে পারে। ফাইনালে ওঠায় আমরা আনন্দিত, কিন্তু এখানেই থামতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপের ট্রফি।”
ফাইনালটি মেসির জন্য আরও বিশেষ একটি কারণে। ২০১৬ সালে শতবর্ষী কোপা আমেরিকার ফাইনালে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই চিলির কাছে হেরে আবেগাপ্লুত হয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। প্রায় এক দশক পর সেই একই মাঠে এবার সামনে বিশ্বকাপের ট্রফি।
এখন প্রশ্ন একটাই—মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কি টানা দ্বিতীয় এবং ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ জিতবে, নাকি ইয়ামালের স্পেন ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরবে? উত্তর মিলবে আজ রাতের ফাইনালে।
ভোরের আকাশ/সু.পা