নিউইয়র্কে প্রবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাতে ফুটবলের উন্নয়ন জামাল ভূঁইয়ার বার্তা

ট্রাম্পের দেশে চলছে ফুটবলের মেগা উৎসব। এর মধ্যেও নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ভিড় জমিয়েছিলেন কিছু বাংলাদেশি প্রবাসী—উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ।
প্রবাসীরা অধিনায়ককে কাছ থেকে পেয়ে কেউ সেলফি তোলেন, কেউ নেন অটোগ্রাফ। এরপর বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন তারা।
এবারের বিশ্বকাপ নানা কারণে আলোচনায়। কেপ ভার্দে, কুরাসাওয়ের মতো ছোট দেশগুলোর ঐতিহাসিক অংশগ্রহণের মধ্যেও বাংলাদেশ না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রবাসী সমর্থকরা। তবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দলকে সমর্থন জানালেও তাদের মূল প্রত্যাশা থাকে বাংলাদেশকে নিয়েই।
বাংলাদেশ কবে বিশ্বকাপ খেলতে পারবে—এ প্রশ্নের জবাবে খোলামেলা মন্তব্য করেন জামাল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “আমাদের ফ্যাসিলিটি বাড়াতে হবে। অনেক জেলায় স্টেডিয়াম আছে, কিন্তু ভালো মাঠ নেই। ঢাকার বাইরে খুব কম জায়গায় ফ্লাডলাইট আছে। শুধু জেলা নয়, ক্লাব পর্যায়েও উন্নতি দরকার। ফ্যাসিলিটি বাড়লে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “প্রপার গাইডেন্সসহ অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের ঘাটতি রয়েছে। আমি ছোটবেলায় ডেনমার্কের ফুটবল সংস্কৃতিতে বড় হয়েছি। বাংলাদেশে সেই কালচার গড়ে তুলতে হবে।”
জাতীয় ফুটবলের বর্তমান কোচ থমাস ডুলিকে নিয়েও কথা বলেন অধিনায়ক। তিনি বলেন, “তিনি একজন পেশাদার সাবেক ফুটবলার। তার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। আমরা তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি।”
দীর্ঘদিন জাতীয় দলের নেতৃত্বে থাকা জামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, “বাংলাদেশের ফুটবল এখনো অনেকটাই ঢাকা কেন্দ্রিক। বিভাগ বা জেলা পর্যায় থেকে দল উঠে এলে সেটি আরও ভালো হবে। এজন্য আমি সুপার লিগের প্রস্তাবও দিয়েছিলাম।”
স্ট্রাইকার সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই প্রশ্নটা আমি ৭-৮ বছর ধরে শুনছি। ঘরোয়া লিগে বিদেশি স্ট্রাইকাররা খেলে, ক্লাবগুলো বিনিয়োগ করে—এটাও একটি বাস্তবতা।”
বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। জামাল বলেন, “তিনি নিজেই একজন সাবেক ফুটবলার, তাই ফুটবলের বিষয়গুলো ভালো বোঝেন। আশা করি সামনে আরও ভালো কিছু হবে।”
জামাল ভূঁইয়া ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তিনি জানান, আগামীকাল ব্রাজিলের ম্যাচ দেখতে হিউস্টনে যাবেন। বিশ্বকাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়ে হাসিমুখে তিনি বলেন, “কেপ ভার্দে।”
আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক–নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। সেই শহরেই অবস্থান করে ম্যাচ দেখার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামাল বলেন, “সব ফুটবলারই বিশ্বকাপ কাছ থেকে দেখতে চায়। এখানে এসে ম্যাচ দেখতে পারা আমার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা।”
ভোরের আকাশ/সু.পা