আফগানিস্তানের দুই ওপেনারকে ফেরানোর সুযোগ হারাল বাংলাদেশ

আবুধাবি টেস্টে বোলিংয়ের শুরুতেই সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের দুই ওপেনার সেদিকউল্লাহ অটল ও আবদুল মালিক দুজনই একবার করে জীবন পেয়েছেন।
এর মধ্যে সেদিকউল্লাহর বিপক্ষে বাংলাদেশের রিভিউ কাজে আসেনি। পরে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে উইকেট হারালেও এবার রিভিউ নেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে অবশ্য বলের ব্যাটে লাগার স্পাইক দেখা গেছে।
হাসান মাহমুদের করা প্রথম ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলের ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়া বলটি উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে। বাংলাদেশের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন শান্ত। তবে রিপ্লেতে কোনো স্পাইক ধরা না পড়ায় রিভিউ হারায় বাংলাদেশ।
এরপর সেদিকউল্লাহর বিপক্ষে আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বলের গতিপথে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা গেলেও শান্ত এবার রিভিউ নেননি। পরে রিপ্লেতে বল ব্যাটে লাগার স্পাইক দেখা যায়। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে উইকেট হারানোর সুযোগ তৈরি হলেও বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারেনি।
অন্য ওপেনার আবদুল মালিকও শুরুতে জীবন পান। তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে বল প্রথম স্লিপ ও দ্বিতীয় স্লিপের মাঝ দিয়ে চলে যায়। পরে আরেকটি ক্যাচ উঠলেও তানজিদ হাসান তামিমের হাতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বল মাটি স্পর্শ করে।
দুই ওপেনারের এমন সুযোগ পাওয়ার পর আফগানিস্তান এখন পর্যন্ত বিনা উইকেটে ১৬ রান সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা এখনও ৩৩০ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
এর আগে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রানে অলআউট হয়। প্রথম দিনের একপর্যায়ে দুই উইকেটে ২২১ রান তুলে শক্ত অবস্থানে ছিল দলটি। কিন্তু মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর আর সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি ব্যাটাররা।
শেষ আট উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১২৫ রান। শুরুতে দুই ওপেনারের দাপুটে ব্যাটিংয়ের পর মিডল অর্ডার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি।
বাংলাদেশের হয়ে তানজিদ হাসান তামিম ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮৩ রান করেন। সেঞ্চুরি থেকে ১৭ রান দূরে থাকতে ইসমত আলমের বলে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলিখিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। সাদমান ইসলাম করেন ৬৭ রান, লিটন দাস ৫৩, মুমিনুল হক ৩৯ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ রান করেন।
আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সেলিম সাফি সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন। ইয়ামিন আহমদজাই ৩টি, ইসমত আলম ২টি ও কাইস আহমদ একটি উইকেট শিকার করেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা