রোনালদোর নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে পর্তুগাল

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ভারসাম্যপূর্ণ ও অভিজ্ঞ এক দল নিয়ে মাঠে নামছে পর্তুগাল। স্কোয়াডের প্রায় প্রতিটি পজিশনেই রয়েছে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত নাম। শক্তিশালী রক্ষণভাগ, সৃজনশীল ও গতিময় মিডফিল্ড এবং কৌশলী ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী আক্রমণভাগ—সব মিলিয়ে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবেই বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ইউরোপের এই পরাশক্তি।
বিশ্বকাপে পর্তুগালের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৬৬ সালে অভিষেক আসরেই তৃতীয় স্থান অর্জন করে তারা। এরপর থেকে একের পর এক প্রজন্মে প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি করে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়রাও ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে নিয়মিত নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন।
দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বয়স বাড়লেও তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি হিসেবেই রয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বে ‘সেলেসাও দাস কিনাস’ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
বিশ্বকাপে সম্ভাব্য আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়া। তবে সেটি বাস্তবায়িত হতে হলে দুই দলকেই নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থান অর্জন করে নির্ধারিত ধাপে পৌঁছাতে হবে। যদিও পর্তুগালের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে রোনালদোকে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর।
প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ যদি দলের সামগ্রিক পরিকল্পনার সঙ্গে রোনালদোকে কার্যকরভাবে মানিয়ে নিতে পারেন এবং মাঠের বাইরের অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন, তবে প্রতিভায় ভরপুর এই দলটির অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দলীয় ভারসাম্যের চেয়ে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত বেশি প্রাধান্য পেলে পর্তুগালের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আক্রমণভাগে বিকল্প হিসেবেও রয়েছে শক্তিশালী নাম। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়ে এই মৌসুমে খুব বেশি সুযোগ না পেলেও গনসালো রামোসকে অনেকেই দলের খেলার ধরনে বেশি উপযোগী মনে করেন। এছাড়া মধ্যমাঠ ও রক্ষণভাগেও রয়েছে যথেষ্ট গভীরতা, যা পর্তুগালকে শিরোপাপ্রত্যাশী দলের কাতারে রেখেছে।
স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্তিনেজ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বেলজিয়ামের কোচ হিসেবে প্রশংসিত ছিলেন। বল দখলে রাখা ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সমন্বয়ে তিনি বেলজিয়ামকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে পর্তুগালের দায়িত্বেও তিনি সফলতার ছাপ রেখে চলেছেন। ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম ট্রফিও অর্জন করেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের সূচি
১৭ জুন: পর্তুগাল বনাম কঙ্গো ডিআর (হিউস্টন)
২৩ জুন: পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান (হিউস্টন)
২৭ জুন: কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল (মায়ামি)
বিশ্বকাপে পর্তুগালের ইতিহাস
কনফেডারেশন: উয়েফা
সেরা ফল: তৃতীয় স্থান (১৯৬৬)
সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২ (কোয়ার্টার ফাইনাল)
প্রথম বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড ১৯৬৬
অংশগ্রহণ: ৯ বার
টানা অংশগ্রহণ: ৭ বার (২০০২ থেকে)
সামগ্রিক রেকর্ড: ৩৫ ম্যাচে ১৭ জয়, ৬ ড্র ও ১২ হার
গোল করেছে: ৬১
গোল হজম করেছে: ৪১
ফিফা র্যাঙ্কিং: ৫
প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতি
১৯৬৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় পর্তুগাল। ইংল্যান্ডের মাটিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে তারা, যা এখনও তাদের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য। ইউসেবিও ও মারিও কলুনার নেতৃত্বে দলটি তাদের লড়াকু মানসিকতা ও অসাধারণ ফুটবল নৈপুণ্যে বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল।
কাতার বিশ্বকাপে পর্তুগাল
২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল পর্তুগাল। গ্রুপ পর্বে ঘানাকে হারানোর পর উরুগুয়ের বিপক্ষেও জয় তুলে নেয় তারা। শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হারলেও নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল আগেই।
শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে পর্তুগাল। তবে পরের ধাপে মরক্কোর কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়। সেই আসরে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় মরক্কো।
বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা
১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইউসেবিও ৯ গোল করে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন। তার অসাধারণ নৈপুণ্য এখনও পর্তুগিজ ফুটবলের অন্যতম গর্বের অধ্যায়।
সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বাধিক ২২টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিলে তিনি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়বেন।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় জয়
২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়াকে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল পর্তুগাল। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাদের সবচেয়ে বড় জয়। সেই ম্যাচে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড় গোল করে দলীয় আধিপত্যের দারুণ উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন।
পর্তুগালের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার- দিয়োগো কোস্তা, হোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্দো ভেলহো
ডিফেন্ডার- তোমাস আরাউজো, জোয়াও ক্যানসেলো, দিয়োগো দালোত, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, নুনো মেন্ডেস, মাতেউস নুনেস, নেলসন সেমেদো, রেনাতো ভেইগা
মিডফিল্ডার- স্যামুয়েল কোস্তা, ব্রুনো ফার্নান্দেস, জোয়াও নেভেস, রুবেন নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, ভিতিনিয়া
ফরোয়ার্ড- ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, জোয়াও ফেলিক্স, গনসালো গেদেস, রাফায়েল লেও, পেদ্রো নেটো, গনসালো রামোস, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও।
ভোরের আকাশ/সু.পা