“অসম্ভব কিছু নেই”—জয়ের পর হালান্ডের আবেগঘন বার্তা

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত করার পথে অন্যতম নায়ক হয়ে উঠেছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। এই তারকা স্ট্রাইকার ম্যাচে দুটি গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। অথচ ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, “ব্রাজিলকে হারানো প্রায় অসম্ভব।” কিন্তু ম্যাচ শেষে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হওয়ায় নিজের বক্তব্যের পরিবর্তন স্বীকার করেন তিনি।
হালান্ড বলেন, “নরওয়ের প্রতিটি শিশু এখন বিশ্বাস করবে—কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।” নরওয়েজিয়ান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ফুটবলে কিছু বিষয় তিনি আগে অসম্ভব বলে মনে করতেন, কিন্তু এই ফলাফল তাকে ভুল প্রমাণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রায় বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। জীবনে কখনও ভাবিনি এমন কিছু ঘটবে। নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে খেলা ছিল আমার স্বপ্ন, কিন্তু আমরা ব্রাজিলকে হারাব—এটা কখনো কল্পনাও করিনি।”
২৫ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, “সত্যি বলতে আমি মনে করতাম ফুটবলে কিছু জিনিস অসম্ভব। কিন্তু মনে হচ্ছে আমি ভুল ছিলাম। আমরা বল দখল করে খেলার বিষয়টি নিজেদের ফুটবল দর্শনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছি। খেলোয়াড় হিসেবে এবং একটি জাতি হিসেবে আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব অর্জন করেছি।”
ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। এর আগে বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য ছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে পৌঁছানো।
এই জয়ের পর প্রশংসায় ভাসলেও হালান্ড কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থ, কোচ এবং সমর্থকদের। তিনি বলেন, “ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করা আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে এই গোলগুলো শুধু আমার একার নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এগুলো তাদের সবার—আমার সতীর্থদের যারা সর্বস্ব উজাড় করে খেলেছে, কোচদের যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছিল, সমর্থকদের যারা কঠিন সময়েও পাশে ছিল এবং নরওয়ের সেই শিশুদের যারা এখন বিশ্বাস করে যে কিছুই অসম্ভব নয়। এই রাত নরওয়ের প্রতিটি ঘরে চিরকাল মনে রাখা হবে।”
কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড। তবে সেই ম্যাচ নিয়ে এখনই বেশি ভাবতে চান না হালান্ড। তার ভাষায়, “এরপর যা-ই ঘটুক না কেন, এই অনুভূতি, এই চোখের জল কিংবা ইতিহাসের এই অংশ—এর কোনো কিছুই কেউ আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না।”
ভোরের আকাশ/সু.পা