আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক কৌশলে মুগ্ধ কিংবদন্তি কাকা

আর্জেন্টিনার লড়াকু, সংগঠিত ও পরিকল্পিত ফুটবল মুগ্ধ করেছে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে। শুধু নিজেদের সমর্থকই নয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের অনেক সমর্থকও প্রশংসা করছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স। সেই তালিকায় যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রিকার্ডো কাকাও।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় সেমিফাইনাল শেষে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা বলেন, ‘আর্জেন্টিনার এই দলের লড়াকু মানসিকতা অসাধারণ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আক্রমণাত্মক মনোভাব ধরে রাখার ফলেই তারা ফাইনালে উঠেছে। এমন অলআউট ফুটবল সত্যিই উপভোগ্য।’
কাকার মতে, কোনো দল যখন রক্ষণাত্মক মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে পুরোপুরি আক্রমণে মনোযোগ দেয়, তখন ম্যাচের উত্তেজনা অন্য মাত্রা পায়। আর্জেন্টিনার সাহসী ও নির্ভীক ফুটবল তাঁকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিফাইনালে শুরুটা অবশ্য আর্জেন্টিনার জন্য সহজ ছিল না। ইংল্যান্ডের হাই-প্রেসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে বেশ চাপে পড়ে যায় লিওনেল মেসির দল। কোচ টমাস টুখেলের কৌশলে ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
গোল হজমের পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং মাঝমাঠের পাশাপাশি দুই প্রান্ত দিয়েও একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ইংল্যান্ডের রক্ষণ তখন ক্রমেই চাপে পড়ে। এ সময় মেসি কিছুটা নিচে নেমে খেলা পরিচালনার দায়িত্ব নেন এবং সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে থাকেন।
ইংল্যান্ড যখন জয় নিশ্চিত করার অপেক্ষায়, তখনই ৮৪ মিনিটে মেসির পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এবার শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা