ইরান দলের যুক্তরাষ্ট্রে সফর ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

১৯৩০ সালে আধুনিক ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন এক নজিরবিহীন ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিবেশে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে আলোচনা চলছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যেখানে ইসরায়েলও যুক্ত বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, বিশ্বকাপকে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের এক নতুন মঞ্চে পরিণত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে টুর্নামেন্টের অন্যতম দল ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থা।
ইরান জাতীয় দলের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র ১০ দিন আগে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিশ্চিত করা হয় বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে দলটির যাতায়াত ও অবস্থানের জন্য ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ বিষয়ে বলেন, পরিস্থিতি যতই জটিল হোক না কেন, ফিফা অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, ইরান দলকে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় একটি নির্ধারিত ক্যাম্পে রাখা হয়েছে, সেখান থেকেই তারা ম্যাচের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আবার ফিরে আসবে।
এই ‘শাটল ব্যবস্থা’ নিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ফিফা সব সময় মাঠের বাইরের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। তার ভাষায়, “সব তথ্য আমাদের কাছে আসে না, আবার কিছু বিষয় থাকে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, ফিফা কোনো কল্পনার জগতে কাজ করে না, বরং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে টুর্নামেন্ট সফলভাবে পরিচালনা করে।
তবে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এই বিশ্বকাপকে কেবল একটি ক্রীড়া আসর নয়, বরং এক জটিল কূটনৈতিক মঞ্চে পরিণত করেছে। বিশেষ করে ইরান দলের অংশগ্রহণ ও তাদের চলাচল ব্যবস্থা এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
ভোরের আকাশ/সু.পা