নকআউটে কঙ্গো, আলোচনায় ব্যতিক্রমী সুপারফ্যান ‘লুমুম্বা ভেয়া’

উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২–এ জায়গা করে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। ৫২ বছর পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছে দলটি।
তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পরও গ্যালারিতে দেখা যায়নি তাদের পরিচিত সুপারফ্যান মিশেল কুকা এম্বোলাডিঙ্গাকে। মূলত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় বিশ্বকাপে উপস্থিত থাকতে পারছেন না এই ব্যতিক্রমী সমর্থক।
চলতি বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর ম্যাচগুলোতে তার অনন্য উপস্থিতি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বছরের শুরুতে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সেও তিনি নজর কাড়েন, যেখানে দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি ম্যাচ চলাকালীন সময় নীরবে স্থির দাঁড়িয়ে থাকতেন।
১৯৬১ সালে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিহত হওয়ার পর লুমুম্বা কঙ্গোর মানুষের কাছে এক শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে ওঠেন। এম্বোলাডিঙ্গার পোশাকেও সেই প্রতীকী মিল দেখা যায়—দেশের পতাকার রঙ অনুযায়ী লাল শার্ট ও টাই এবং নীল প্যান্ট পরেন তিনি।
তার এই অনন্য সমর্থনের কারণে তিনি পরিচিতি পান ‘লুমুম্বা ভেয়া’ নামে। রাজধানী কিনশাসার লুমুম্বা মূর্তির ভঙ্গির অনুকরণে তিনি হাত উঁচু করে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, যেখানে অন্য সমর্থকেরা গান ও উল্লাসে মেতে ওঠেন।
ডিআর কঙ্গো ইতোমধ্যে শেষ ৩২–এর ম্যাচ নিশ্চিত করেছে, যেখানে আগামী ১ জুলাই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও এম্বোলাডিঙ্গার উপস্থিতি অনিশ্চিত।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত কঙ্গোর রাষ্ট্রদূত কাপিঙ্গা ইয়ভেট এনগান্দু রয়টার্সকে জানান, ডিআর কঙ্গো নকআউটে উঠলে এম্বোলাডিঙ্গার ভিসা পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমি আশা করি সে দলের জন্য তার নিজস্ব ধরনের সমর্থন নিয়ে আসবে।”
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কারণে ভ্রমণ বিধিনিষেধ জটিলতা তৈরি করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা ১,২০৩ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৩২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে দেরিতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন এম্বোলাডিঙ্গা। সেই ম্যাচে ডিআর কঙ্গো ১-০ গোলে হেরে যায়।
ভোরের আকাশ/সু.পা