শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ বনাম আর্জেন্টিনার কৌশলগত দৃঢ়তার লড়াই

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে এমন দুটি দল, যারা ভিন্ন ভিন্ন পথ পেরিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। তবে তাদের যাত্রায় একটি মিল রয়েছে—দুই দলকেই এমন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে, যেখানে শুধু সামগ্রিক পারফরম্যান্স যথেষ্ট ছিল না; প্রয়োজন হয়েছে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের।

ইংল্যান্ড ব্যক্তিগত প্রতিভা, আক্রমণভাগের ধার এবং দুই প্রান্তে কার্যকর পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে এগিয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কৌশলগত সচেতনতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে কঠিন মুহূর্তগুলো পার করেছে। ফলে এই ম্যাচে শুধু তারকারাই নয়, ছোট ছোট বিষয়ও নির্ধারণ করতে পারে ফলাফল।

থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড বল দখল নিয়ন্ত্রণকেই ম্যাচ জয়ের একমাত্র পথ মনে করে না। যেখানে অনেক দল পাসিং ফুটবলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের অর্ধে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, সেখানে ইংল্যান্ড দ্রুত গোলের সুযোগ তৈরি করাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। মেক্সিকোর বিপক্ষে কম পজেশন রেখেও তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের উদাহরণ দেখা গেছে।

সাধারণত ৪-২-৩-১ ফরমেশনে শুরু করলেও জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের মুভমেন্টের ওপর নির্ভর করে ইংল্যান্ডের আক্রমণের ধরন বারবার পরিবর্তিত হয়। আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

বেলিংহাম এখন শুধু একজন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার নন, তিনি হয়ে উঠেছেন ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো একজন খেলোয়াড়। মাঠের গভীর থেকে আক্রমণ তৈরি করা, কেইনের তৈরি করা জায়গা কাজে লাগানো এবং সঠিক সময়ে বক্সে ঢুকে পড়ার দক্ষতা তাকে বড় হুমকিতে পরিণত করেছে।

অন্যদিকে হ্যারি কেইন এখন শুধু গোলদাতা হিসেবে নয়, আক্রমণের মূল সংযোগ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিচে নেমে মিডফিল্ডের সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখেন এবং বেলিংহাম কিংবা বুকায়ো সাকার জন্য জায়গা তৈরি করেন।

সেট পিসেও ইংল্যান্ড বড় হুমকি। ডেক্লান রাইসের নিখুঁত ডেলিভারি কেইন, জন স্টোনস কিংবা বেলিংহামের মতো খেলোয়াড়দের গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। টুর্নামেন্টে এই কৌশল তাদের সাফল্যের অন্যতম অস্ত্র হয়ে উঠেছে।

উইং পজিশনেও ইংল্যান্ডের রয়েছে বড় শক্তি। বুকায়ো সাকার একের বিপরীতে এক ড্রিবলিং এবং অ্যান্থনি গর্ডনের গতিশীলতা আর্জেন্টিনার রক্ষণকে সমস্যায় ফেলতে পারে। তাই এই দুই খেলোয়াড়কে ফাঁকা জায়গা দেওয়া যাবে না।

তবে ইংল্যান্ডের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। কয়েকটি ম্যাচে রক্ষণভাগ সংগঠিত হতে তাদের সময় লেগেছে। শুরুতেই চাপ তৈরি করতে পারলে আর্জেন্টিনা তাদের পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য করতে পারে।

ডেক্লান রাইস চাপে পড়লে ইংল্যান্ডের বিল্ড-আপ কিছুটা দুর্বল হয়ে যায়। সে সময় তারা অনেক বেশি সরাসরি পাসের ওপর নির্ভর করে। এই জায়গাটি কাজে লাগাতে পারলে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের আক্রমণের ধার কমিয়ে দিতে পারে।

এ ছাড়া বল হারানোর পর ইংল্যান্ডের রক্ষণে কিছুটা ফাঁক তৈরি হয়। সঠিক সময়ে দ্রুত পাস এবং উইং দিয়ে আক্রমণ করতে পারলে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

আরও পড়ুন

চেন্নাই সুপার কিংসের ১৮ বছরের কোচিং ইতি টানলেন স্টিফেন ফ্লেমিং

নরওয়ের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের কঠিন ম্যাচ খেলে সেমিফাইনালে এসেছে ইংল্যান্ড। তাই শারীরিকভাবে তাদের ওপর কিছুটা বাড়তি চাপ থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় উচ্চ গতির ম্যাচ হলে আর্জেন্টিনার বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন ধরনের ফুটবল দর্শন। ইংল্যান্ডের রয়েছে ব্যক্তিগত প্রতিভায় ম্যাচ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা, আর আর্জেন্টিনার বড় শক্তি হলো পরিস্থিতি বুঝে কৌশল পরিবর্তনের দক্ষতা। শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে যাবে, তা নির্ধারণ করবে চাপের মুহূর্তে কোন দল নিজেদের কতটা ভালোভাবে সামলাতে পারে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

ফিফা বিশ্বকাপ

শেয়ার করুন: