বিপাকে মেক্সিকো, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই চরম বিশৃঙ্খলা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। রাজধানীর ঐতিহাসিক ‘জোকালো’ চত্বরে বিক্ষোভরত শিক্ষকদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে দাঙ্গা পুলিশ।
অথচ এই জোকালো চত্বরেই বিশ্বকাপ উপলক্ষে জমকালো সমর্থক উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পুলিশের শক্তি প্রয়োগের এটি দ্বিতীয় ঘটনা।
সরকারের সঙ্গে শিক্ষকদের চলমান এই সংঘাত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশন আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে মেক্সিকোর শিক্ষক সংগঠন ‘সিএনটিই’।
গত মে মাসের মাঝামাঝি শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকেই তারা বিশ্বকাপ চলাকালে বড় ধরনের বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল। ১ জুনের বিক্ষোভে পুলিশের টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনার পর সিএনটিইর নেতা ফিলিবের্তো ফ্রাউস্তো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এই বিশ্বকাপ উৎসব স্থগিত করতে হবে। আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম বিশ্বকাপের মতো সাময়িক বিনোদন বা মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
সিএনটিইর নবম শাখার সাধারণ সম্পাদক পেদ্রো হার্নান্দেজ মোরালেসও কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, উদ্বোধনী ম্যাচের আগে যদি তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে ‘মাঠে বল গড়াবে না’।
সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা জোকালো চত্বর ঘিরে রাখা ধাতব ব্যারিকেডের একটি অংশ ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে দাঙ্গা পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয় এবং টিয়ারগ্যাস ছোড়ে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের নিক্ষেপ করা একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে এক বিক্ষোভকারী শিক্ষকের মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে ২৬ মে ওহাকা অঙ্গরাজ্যের সিএনটিইর ২২ নম্বর শাখার শিক্ষকেরা চত্বরে প্রতিবাদী শিবির স্থাপনের চেষ্টা করলে তখনও পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
ওহাকার শিক্ষক ফ্রান্সিসকা পেরেজ স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইকে বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, আঘাত করেছে এবং জোর করে সরিয়ে দিয়েছে।’
এদিকে সাংবাদিক ম্যানুয়েল লোপেজ সান মার্টিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখিয়েছেন, পুলিশ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি নিয়ে মেক্সিকোর জনশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঐতিহাসিক চত্বরে বর্তমানে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় সেখানে বড় ধরনের জমায়েত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি শিক্ষক ইউনিয়নকে আগেই জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছে সরকার।
তবে সরকারের এই ব্যাখ্যা মানতে রাজি নন আন্দোলনরত শিক্ষকেরা। ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত তাদের দাবি মেনে না নিলে বিশ্বকাপ চলাকালে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে ‘লাখো’ শিক্ষককে সমবেত করা হবে। প্রয়োজন হলে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাকও দেওয়া হতে পারে।
ভোরের আকাশ/ইউএম