ফাইনালে লাউতারোকে না খেলানোর সিদ্ধান্তে বিতর্কে স্কালোনি

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন লাউতারো মার্তিনেজ। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই লাউতারোকেই এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামাননি কোচ লিওনেল স্কালোনি। আর্জেন্টিনার ১-০ গোলের পরাজয়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে কোচের এই সিদ্ধান্ত।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেন। পুরো ম্যাচে স্কালোনি ছয়টি পরিবর্তনের সুযোগ ব্যবহার করলেও ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকারকে মাঠে নামাননি। অথচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে ৯০+২ মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিলেন লাউতারো।
ফাইনালে আক্রমণভাগে শুরু থেকেই লিওনেল মেসির সঙ্গে হুলিয়ান আলভারেজকে খেলান স্কালোনি। উইংয়ে ছিলেন নিকোলাস গনসালেস। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে নিকো পাজ, আনহেল কোরেয়া, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো, ফাকুন্দো মেদিনা ও লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামানো হলেও লাউতারোকে পুরো ম্যাচই কাটাতে হয় বেঞ্চে বসে।
ইতালির সংবাদমাধ্যম গাজ্জেত্তা দেলো স্পোর্তের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফাইনালের আগে লাউতারো শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট ছিলেন। তাই তাকে না খেলানোর পেছনে চোটের কোনো বিষয় ছিল না; এটি ছিল পুরোপুরি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, স্কালোনি মনে করেছিলেন আলভারেজের চাপ তৈরি করার ক্ষমতা এবং গনসালেসের গতি স্পেনের বিপক্ষে বেশি কার্যকর হবে।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনা যখন গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল, তখনও সেমিফাইনালের নায়ক লাউতারোকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেননি স্কালোনি। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
পুরো বিশ্বকাপে লাউতারো ছিলেন আর্জেন্টিনার অন্যতম কার্যকর খেলোয়াড়। নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন তিনি। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের হেডে করা গোলই আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে দেয়।
সেমিফাইনালের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় লাউতারো বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তের জন্য আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। ফাইনালে ওঠা আমাদের পরিশ্রমের পুরস্কার।’ কিন্তু সেই ফাইনালেই মাঠে নামার সুযোগ না পাওয়াটা তার জন্য হয়ে ওঠে বড় হতাশার কারণ।
স্কালোনির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, দল যখন গোলের জন্য লড়ছিল, তখন সেমিফাইনালের ম্যাচজয়ী স্ট্রাইকারকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত কি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার শিরোপা হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে?
ভোরের আকাশ/সু.পা