আমরা হারতে নয়, নিজেদের প্রমাণ করতে এসেছি : লিয়ান্দ্রো বাকুনা

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে জার্মানি, ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্টের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হবে কুরাসাও। তবে ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ছোট দেশ হিসেবে নয়, বরং এক অনুপ্রেরণাদায়ী রূপকথার প্রতিনিধি হিসেবেই দেখছে তারা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া ক্ষুদ্রতম দেশটির অধিনায়ক লিয়ান্দ্রো বাকুনা ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা কোনো দলকেই ভয় পান না।
কুরাসাও ফুটবল দলের পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দলটির জন্য বড় এক অর্জন। ৩৪ বছর বয়সী বাকুনা বলেন, “১০ বছর আগে যখন আমি এই দলে যোগ দিই, তখন থেকেই আমরা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশ ছোট হতে পারে, কিন্তু বড় কিছু অর্জনের বিশ্বাস সবসময় ছিল।”
এবারের বিশ্বকাপে লিয়ান্দ্রো বাকুনার সঙ্গে খেলবেন তার ভাই জুনিনহো বাকুনাও। নেদারল্যান্ডসের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলা জুনিনহো যখন জাতীয় দল নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন, তখন বড় ভাই তাকে কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে বাকুনা বলেন, “নিজ দেশের হয়ে দুই ভাইয়ের একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলা সত্যিই বিরল সৌভাগ্যের বিষয়। আমাদের পুরো পরিবারই ফুটবলপ্রেমী।”
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কুরাসাও শুধু অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য মাঠে নামছে না। দলটির লক্ষ্য নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করা।
বাকুনা বলেন, “আমরা আন্ডারডগ হতে পারি, কিন্তু কাউকে ভয় পাই না। আমরা শুধু আনন্দ করতে আসিনি। আমরা দেখাতে চাই, একটি ছোট দেশও বড় কিছু করতে পারে। আমরা বড় ব্যবধানে হারতে আসিনি, বরং নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে এসেছি।”
নিজেকে নিয়েও আত্মবিশ্বাসী কুরাসাও অধিনায়ক। তিনি বলেন, “আমার বয়স এখন ৩৪। অনেকেই আমাকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এই বিশ্বকাপ আমার জন্য বড় এক সুযোগ। আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছি, যাতে বিশ্বকে দেখাতে পারি কেন আমি এখানে।”
ভোরের আকাশ/সু.পা