কোরিয়াকে হারিয়ে নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়লেও শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-র বাঁচা-মরার লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ৩২) জায়গা করে নিয়েছে ‘বাফানা বাফানা’।
মেক্সিকোর মন্টেরির মাঠে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের নায়ক থাপেলো মাসেকো। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর করা একমাত্র গোলেই কোরিয়াকে হারিয়ে নিশ্চিত হয় আফ্রিকান দলের ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রা।
ম্যাচের শুরুতে চমক দেন দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিউং-বো। এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম তারকা সন হিউং-মিনকে শুরুর একাদশের বাইরে রেখে দল সাজান তিনি। অধিনায়ক কিম মিন-জের হেডার গোললাইন থেকে অব্রে মোদিবা প্রতিহত না করলে শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত কোরিয়া। পরবর্তীতে লি ক্যাং-ইনের একটি শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
শুরুর চাপ সামলে ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। আক্রমণাত্মক খেললেও প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ নষ্ট করে তারা। ৩০তম মিনিটে থ্যালেন্তে এমবাথার শট কোরিয়ান গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলেও গোল মিস করেন এভিডেন্স মাকগোপা।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকায় দ্বিতীয়ার্ধে একযোগে তিনটি পরিবর্তন আনেন কোরিয়ান কোচ, যার মধ্যে মাঠে নামানো হয় সন হিউং-মিনকে। তবে তার পরও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনউয়েন উইলিয়ামসকে ভাঙতে পারেনি কোরিয়া।
৬৩তম মিনিটে আসে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। টিশেপাং মোরেমির নিখুঁত ক্রসে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশিং করেন থাপেলো মাসেকো (১-০)। এই গোলেই এগিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে বারবার ব্যর্থ হয় তারা। সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক জয়।
গ্রুপ ‘এ’ থেকে ৩ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মেক্সিকো, আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ২৮ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নকআউট পর্বে শক্তিশালী কানাডার মুখোমুখি হবে তারা।
ভোরের আকাশ/সু.পা