ডারউইন টেস্ট বাংলাদেশের ১৫৩ রানের লিড

দলীয় স্কোর তিনশ পার হওয়ার পরপরই ছোট্ট ধস। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের শক্ত জবাব তখন কিছুটা ম্লান হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কারণ লিড তখনও একশর ঘরে। ষষ্ঠ উইকেট হিসেবে মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের পর মনে হচ্ছিল, বেশি দূর যেতে পারবে না বাংলাদেশ।
কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হলো নতুন লড়াই। মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ দৃঢ় হাতে সামাল দিলেন মাঝের ধস। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বেশ ভালোভাবেই সামলে নেন দুজন। ৩০৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর দিন শেষ করেছেন অপরাজিত থেকে। তাঁদের ব্যাটে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৫১ রান।
ফলে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩৫১/৬। মিরাজ ৩২ ও হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম ১০১ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
ইনিংসের ৮০তম ওভার শেষে নতুন বল নেয় অস্ট্রেলিয়া। নতুন বলে বাংলাদেশকে বেশ চাপে ফেলে স্বাগতিকরা। মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে তিনটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। তখন ক্রিজে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অপর প্রান্তে ছিলেন পেসার হাসান মাহমুদ। তবে অজি বোলারদের সামনে দারুণ দৃঢ়তায় ব্যাট করেন দুজন।
দিনের শুরুতেই তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হকের ১০২ রানের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। মুমিনুল ৪৯ রানে আউট হওয়ার পর তানজিদের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
তানজিদ ১৮৮ বলে তুলে নেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এটি। তাঁর সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশ বড় লিডের পথেই এগোচ্ছিল। অন্য প্রান্তে শান্তও ছিলেন শতকের কাছাকাছি।
কিন্তু সেঞ্চুরি করার পরই তানজিদের বিদায় এবং কিছুক্ষণ পর ৮৪ রানে অধিনায়ক শান্তর আউট বাংলাদেশকে বড় ধাক্কা দেয়।
৩ উইকেটে ২৯৭ রান করা বাংলাদেশ ৩০৮ রানের মধ্যেই হারায় আরও তিন উইকেট। নতুন বল হাতে মাত্র ১১ রানের মধ্যে তিন ব্যাটারকে ফেরান অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা।
জশ হ্যাজলউডের অতিরিক্ত বাউন্সে ব্যাটের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে ধরা পড়েন শান্ত। ১২৬ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৮৪ রানের ইনিংসটি শেষ হয় তাঁর।
এরপর লিটন দাসও কোনো রান না করেই ফিরে যান। মিচেল স্টার্কের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে থিক এজ হন লিটন। বল চলে যায় স্টিভ স্মিথের হাতে।
সেট হওয়ার আভাস দিয়েও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। ৫৫ বলে ৩৬ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে আউট হন তিনি।
৩০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর শুরু হয় মিরাজ ও হাসানের প্রতিরোধ। দাঁত কামড়ে উইকেটে পড়ে থাকার পণ করেন দুজন। প্রায় ২৫ ওভার ব্যাট করে দিন পার করে দেন তাঁরা।
মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ এবং হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত আছেন। তাঁদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ এখন বড় লিড নেওয়ার আশায় রয়েছে।
তবে দিনের শেষ দিকে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিলেন মিরাজ। মার্নাস লাবুশেনের বলে তাঁর ক্যাচ ধরতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। নিচু ক্যাচটি হাতে জমাতে ব্যর্থ হন তিনি। তখন মিরাজের রান ছিল ৩২।
সেই জীবন কাজে লাগিয়ে মিরাজ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে কতটা বড় লিড এনে দিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত গ্রিনের হাত ফসকে যাওয়া ক্যাচ এবং দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঘোষণায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে বাংলাদেশ।
ভোরের আকাশ/সু.পা