ইউরো ১৯৯৬-এর ফাইনালের স্মৃতি নিয়ে ওয়েম্বলিতে চেক প্রজাতন্ত্র

ইউরো ১৯৯৬-এর সেই স্মৃতি এখনও চেক প্রজাতন্ত্রের ফুটবল ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে। তিন দশক আগে ওয়েম্বলির ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল দলটি। ৩০ বছর পর আবারও সেই ওয়েম্বলিতে ফিরছে চেকরা। এবার নেশন্স লিগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।
১৯৯৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে চেক প্রজাতন্ত্রকে খুব একটা ফেবারিট হিসেবে ধরা হয়নি। এমনকি দলের কয়েকজন খেলোয়াড় গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পরের ছুটিও আগেভাগে পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন। ভ্লাদিমির শ্মিৎসার তো বিয়ের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন।
কিন্তু মাঠের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। জার্মানির কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও পরের ম্যাচে ইতালিকে ২-১ গোলে হারায় চেকরা। এরপর রাশিয়ার সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে নাটকীয়ভাবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা।
কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে কারেল পোবোরস্কির দুর্দান্ত গোলে ১-০ ব্যবধানের জয় পায় চেক প্রজাতন্ত্র। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৬-৫ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি।
পাভেল নেদভেদ, প্যাট্রিক বার্গার ও কারেল পোবোরস্কিদের সেই দল তখন স্বপ্নের মতো পথ পাড়ি দিচ্ছিল। ফাইনালেও শুরুটা ছিল তাদের পক্ষে। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে প্যাট্রিক বার্গারের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র।
তবে শেষ পর্যন্ত অধরা থেকে যায় শিরোপা। ১৪ মিনিট পর অলিভার বিয়েরহফের গোলে সমতায় ফেরে জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ে আবারও গোল করে জার্মানিকে জয় এনে দেন বিয়েরহফ। ফলে ফাইনালের ট্রফি নিয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মানি।
এরপর ২০০৪ সালের ইউরোতে সেমিফাইনালে ওঠে চেক প্রজাতন্ত্র। ২০১২ ও ২০২১ সালের আসরে তারা কোয়ার্টার ফাইনালেও খেলেছে। তবে আলাদা দেশ হিসেবে ১৯৯৬ সালের পর আর কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠতে পারেনি চেক প্রজাতন্ত্র।
তিন দশক পর সেই ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাই ১৯৯৬-এর স্মৃতিই নতুন করে ফিরে আসছে চেক ফুটবলে।
ভোরের আকাশ/সু.পা