পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য কঠিন বার্তা শোয়েবের

ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামছে পাকিস্তান। এর আগে দলের কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে সতর্ক করেছেন সাবেক তারকা পেসার শোয়েব আখতার।
তাঁর মতে, এই সিরিজে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলে জাতীয় দলে জায়গা হারাতে পারেন বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও শাদাব খানের মতো ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে বাবরকে নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নতুন করে ভাবছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
‘আউটসাইড এজ’ অনুষ্ঠানে বাবরকে নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন শোয়েব। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান দলে কি বাবর আজমকে রাখতেই হবে? অবশ্যই রাখতে হবে। অন্যদের কি তার সঙ্গে খেলতে হবে এবং তার ব্যাটিং গড়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে? হ্যাঁ, অবশ্যই। এখন আমাদের সেভাবেই মানিয়ে নিতে হবে। কিন্তু ওয়ানডে দল থেকে কি তাকে বাদ দেওয়া হবে? আমি শুধু প্রশ্নটা তুলছি। আমার মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। ভেতরের খবর থেকে বলছি, তারা এ ধরনের কিছু ভাবছে।’
বাবরকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা তাঁর উদ্দেশ্য নয় জানিয়ে পাকিস্তানের সাবেক এই পেসার বলেন, পারফরম্যান্স ও প্রতিভা বিবেচনায় বাবরকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিত। একই সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের দায়িত্বও বাবরের।
শোয়েব বলেন, ‘বাবর আজমকে নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করার জন্য আমি এসব বলছি না। আমার মনে হয়, তার খেলা উচিত। পারফরম্যান্স ও প্রতিভা বিবেচনায় তাকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো উচিত। বাবরের উচিত পিসিবিকে প্রমাণ করা, “আমি ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য যোগ্য একজন খেলোয়াড়।”’
পাকিস্তানের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন বাবর। এরপরও আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর চাপ রয়েছে বলে মনে করেন শোয়েব। তাঁর দাবি, দলের কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ের কাছে এই সিরিজ জাতীয় দলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর একধরনের অদৃশ্য চাপ রয়েছে। তাদের মনে হতে পারে, এটাই হয়তো আমাদের শেষ সিরিজ। খোলাখুলি বলছি—নাসিম শাহ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও শাদাব খানও এই চাপের মধ্যে আছে। বিশেষ করে বাবর আজমও।’
তবে পারফরম্যান্সের চাপকে বিদায়ের হুমকিতে পরিণত করা উচিত নয় বলেও মনে করেন শোয়েব। তাঁর ভাষায়, ‘যদি তাদের মনে এই চাপ থাকে যে এটাই শেষ সিরিজ হয়ে যেতে পারে, তাহলে সেটা ঠিক নয়। বাবরকে যদি এমন মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামানো হয় যে “পারফর্ম করো, না হলে বিদায়”, তাহলে সেটা কিছুটা অন্যায্য। এমনটা করা উচিত নয়।’
বাবরের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কথাও অকপটে জানিয়েছেন শোয়েব। তিনি বলেন, ‘সে এখন যেমনই হোক, যেভাবেই খেলুক, তাকে সেভাবেই সামলাতে হবে। কারণ তার চেয়ে ভালো খেলোয়াড় তো তোমাদের কাছে নেই। সে আমার পছন্দের খেলোয়াড় নয়। কিন্তু আমাদের হাতে যা আছে, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে এবং তাকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে।’
শুধু বাবর নন, পেসার শাহিন আফ্রিদির বোলিং নিয়েও পরামর্শ দিয়েছেন শোয়েব। তাঁর মতে, শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গতিতে বল করার চেষ্টা না করে ধাপে ধাপে গতি ও শক্তি বাড়ানো উচিত শাহিনের।
শাহিনের উদ্দেশে শোয়েব বলেন, ‘আমি শাহিনের পক্ষেই কথা বলছি। আমার পরামর্শ হলো, শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গতিতে বোলিং করতে ঝাঁপিয়ে পড়বে না। বরং নিজের গতি ও শক্তি ধাপে ধাপে বাড়াবে। অতীতে আমাদের সময়ের দ্রুততম বোলাররা কিংবা পাকিস্তানের পেসাররা এভাবেই নিজেদের গতি ও শক্তি কাজে লাগাত। দ্বিতীয় স্পেলে আরও শক্তিশালী বোলিং করতাম, আর শেষ স্পেলে থাকত সর্বোচ্চ তীব্রতা।’
রোববার থেকে শুরু হচ্ছে পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ত্রিদেশীয় সিরিজ। উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় শুরু হবে ম্যাচটি। প্রতিটি দল পরস্পরের বিপক্ষে দুবার করে খেলবে। এরপর ৩১ অক্টোবর লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
ভোরের আকাশ/সু.পা