শিরোনাম
ইউপি ভোট: প্রথম ধাপের তফসিল ১০ ডিসেম্বরডিসেম্বরকে সামনে রেখে অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা চলছে: শ্রমমন্ত্রী১৩ সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবারগার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন, গেজেট প্রকাশসাজেকে দুই পক্ষে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি, অবরোধে বন্ধ বড় যান চলাচলঅক্টোবরে রেমিট্যান্স এলো ৩৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা৩১৮ কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক৩ নভেম্বর সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীইউপি ভোট: প্রথম ধাপের তফসিল ১০ ডিসেম্বরডিসেম্বরকে সামনে রেখে অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা চলছে: শ্রমমন্ত্রী১৩ সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবারগার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন, গেজেট প্রকাশসাজেকে দুই পক্ষে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি, অবরোধে বন্ধ বড় যান চলাচলঅক্টোবরে রেমিট্যান্স এলো ৩৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা৩১৮ কারখানা বন্ধ, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক৩ নভেম্বর সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে সাফে ভিন্ন কৌশল ভারতের

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ ডেভেলপমেন্টাল স্কোয়াড পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির এই সিদ্ধান্তের পর দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতায় তাদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, শক্তিশালী দল না পাঠিয়ে ভারত কি সাফকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে ভিন্ন কৌশল?

এবারই প্রথম নয়, এর আগেও ২০০৯ ও ২০১৮ সালের সাফ আসরে উন্নয়নমূলক দল পাঠিয়েছিল ভারত। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে মালদ্বীপকে ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। ২০১৮ সালের আসরে অবশ্য টাইব্রেকারে একই দলের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় ভারত।

এবার অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশ তাদের মূল জাতীয় দল নিয়েই মাঠে নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ভারতের দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর সিদ্ধান্তে টুর্নামেন্টের জৌলুস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা কমতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে ভারতের এই সিদ্ধান্তকে সাফকে খাটো করে দেখার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা ভারত এখন আরও বড় লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে। তাদের লক্ষ্য ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০-তে জায়গা করে নেওয়া এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) এশিয়ান কাপ ও ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ড্রতে নিজেদের অবস্থান উন্নত করা।

এই লক্ষ্য সামনে রেখে সাফের মতো আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে লাভ-ক্ষতির হিসাবও ভারতের জন্য আলাদা। তুলনামূলক নিচের সারির দলের বিপক্ষে জিতলে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে খুব বেশি পয়েন্ট পাওয়া যায় না। বিপরীতে ড্র বা হার হলে র‍্যাঙ্কিংয়ে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে এশীয় ফুটবলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাওয়া ভারতের কাছে এই প্রতিযোগিতায় ঝুঁকি ও প্রাপ্তির হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া ভারত ৯ থেকে ১৭ নভেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। এই সূচি ৫ থেকে ১৭ নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সময়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

টুর্নামেন্টের সময়সূচি ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) জন্যও জটিলতা তৈরি করতে পারে। দুই সপ্তাহের এই আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার জন্য ক্লাবগুলো তাদের মূল একাদশের খেলোয়াড়দের ছাড়তে অনীহা দেখাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠিয়ে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) একটি সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে। এতে ঘরোয়া ফুটবল সূচি ব্যাহত না করেও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিনিয়র দলের খেলার সুযোগ ধরে রাখা সম্ভব হবে।

ভারতের খেলোয়াড় উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গেও এ সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে। বয়সভিত্তিক ফুটবল থেকে সিনিয়র আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উঠে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। ঘরোয়া লিগের ম্যাচে আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাপ, প্রতিপক্ষের বৈরী সমর্থক এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। সাফের মতো টুর্নামেন্ট তাই তরুণদের জন্য নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করে।

২০১৮ সালের সাফে ভারতের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। কোচ স্টিফেন কনস্টানটাইনের অধীনে অনিরুদ্ধ থাপা, লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে, আশিক কুরুনিয়ান ও সুভাশিষ বোসের মতো উদীয়মান খেলোয়াড়রা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেকেই ভারতের সিনিয়র দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতে নামিবিয়ার ইতিহাস

ভারত সাফকে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড় গড়ে তোলার মঞ্চ হিসেবে দেখলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর কাছে এই প্রতিযোগিতা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সুযোগ। ভারতের সিনিয়র তারকারা না থাকলেও তাদের বিপক্ষে জয় পাওয়া অন্য দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হতে পারে। তাই দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর সিদ্ধান্তে টুর্নামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন বদলাতে পারে, তবে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব পুরোপুরি কমে যাবে কি না, তা মাঠের খেলাতেই স্পষ্ট হবে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে ভারতের আধিপত্যও উল্লেখযোগ্য। এখন পর্যন্ত ১৪ আসরের মধ্যে নয়বার শিরোপা জিতেছে তারা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মালদ্বীপ। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান একবার করে শিরোপা জিতেছে। অন্যদিকে নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান এখনো প্রথম শিরোপার অপেক্ষায় রয়েছে।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: