সাহস ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবার কেপ ভার্দে

প্রায় ৫ লাখ জনসংখ্যা এবং মাত্র ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের যোগ্যতা অর্জন নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৮ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করে দেশটির জাতীয় দল। গত কয়েক দশকে খেলোয়াড়, কোচ ও ফুটবল সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তাদের স্বপ্নও।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া দেশটির এই সাফল্য তাদের শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। দেশের ভেতরে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কেপ ভার্দিয়ান জনগোষ্ঠীকে এই ফুটবল দল এক সুতোয় বেঁধেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশের কেপ ভার্দিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলাররা জাতীয় দলে যোগ দেওয়ায় এই অগ্রযাত্রা এক ধরনের জাতীয় জাগরণে পরিণত হয়েছে।
প্রধান কোচ পেদ্রো লেইতাও ব্রিটো, যিনি ‘বুবিস্তা’ নামেই বেশি পরিচিত, তার নেতৃত্বে দলটি পেয়েছে নতুন পরিচয়। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার বুবিস্তা খেলোয়াড়ি জীবনে অ্যাঙ্গোলা, স্পেন ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। ২০২০ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ‘ব্লু শার্কস’দের এমন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেন, যা খেলোয়াড় হিসেবে তিনি কেবল স্বপ্নই দেখেছিলেন।
বুবিস্তার অধীনে কেপ ভার্দে একটি সুসংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ দলে পরিণত হয়েছে। সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ, কৌশলগত বহুমুখিতা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের দক্ষতা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। পুরো বাছাইপর্বে দলটি এমন একটি পরিচয় গড়ে তুলেছে, যেখানে তাদের হারানো যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
পর্তুগালে জন্ম নেওয়া অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বেবে দলের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়ে বলেন, “আমরা হয়তো ছোট একটি দেশ, কিন্তু আমাদের সহজে হারানো যাবে না। আমরা লড়াই করতে যাচ্ছি এবং আমার কোনো সন্দেহ নেই, আমরা সেটা করতে পারব।”
কেপ ভার্দের বিশ্বকাপের সূচি
১৫ জুন: স্পেন বনাম কেপ ভার্দে — আটলান্টা স্টেডিয়াম
২১ জুন: উরুগুয়ে বনাম কেপ ভার্দে — মায়ামি স্টেডিয়াম
২৬ জুন: কেপ ভার্দে বনাম সৌদি আরব — হাউস্টন স্টেডিয়াম
সাফল্যের ধারাবাহিকতা
২০২৬ বিশ্বকাপের আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে কেপ ভার্দের ধারাবাহিকতা ও লড়াকু মানসিকতা ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফল। এর আগেও তারা সম্ভাবনার ঝলক দেখিয়েছিল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল নাইজেরিয়ার সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করেছিল তারা। তবে শেষ ম্যাচে ড্র করায় স্বপ্নভঙ্গ হয়। সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রায়ান মেন্দেস, গোলরক্ষক ভোজিনহা এবং ডিফেন্ডার রবার্তো ‘পিকো’ লোপেস চার বছর পর বিশ্বকাপে ওঠা এই দলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গড়া দলটি শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্বপ্নপূরণ করেছে।
বাছাইপর্বের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার পথে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ধারাবাহিকতা। ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় এবং একটি গোলও হজম না করার কৃতিত্ব তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রাইয়ায় অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে এসওয়াতিনিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে তারা। ক্যামেরুন ও অ্যাঙ্গোলার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকা সত্ত্বেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই মূল পর্বে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে। এটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।
কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ ইতিহাস
কনফেডারেশন: সিএএফ
প্রথম বিশ্বকাপ: ২০২৬
অংশগ্রহণ: ১ বার (২০২৬)
ফিফা র্যাঙ্কিং: ৬৭তম।
কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার- ভোজিনহা, মার্সিও রোজা, সি. জে. দোস সান্তোস
ডিফেন্ডার- ডিনে বোর্হেস, সিডনি কাব্রাল, লোগান কস্তা, স্টিভেন মোরেরা, ওয়াগনার পিনা, জোয়াও পাওলো ফার্নান্দেস, রবার্তো ‘পিকো’ লোপেস, কেভিন পিরেস, ইআনিকে ‘স্টোপিরা’ তাভারেস
মিডফিল্ডার- টেলমো আরকানজো, লারোস দুয়ার্তে, ডেরয় দুয়ার্তে, জামিরো মন্টেইরো, কেভিন পিনা, ইয়ানিক সেমেদো
ফরোয়ার্ড- গিলসন বেনচিমল, জোভানে কাব্রাল, নুনো দা কস্তা, দাইলন লিভ্রামেন্তো, রায়ান মেন্দেস, গ্যারি রদ্রিগেস, উইলি সেমেদো, হেলিও ভেরেলা
ভোরের আকাশ/সু.পা