শিরোনাম
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক

তাবিথ যুগে বাংলাদেশ ফুটবলের নবজাগরণ

মোহাম্মদ আক্তার হোসেন

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ৬:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- সংগৃহীত
ছবি- সংগৃহীত

কাজী সালাউদ্দিনের ১৬ বছরের শাসনের অবসার ঘটিয়ে গত বছর অক্টোবরে তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। সেই পরিবর্তনের পটভূমি ছিল দীর্ঘ দিনের হতাশা-একদিকে হয়ত কিছু সাফল্য থাকলেও, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ফুটবল অনেকটা মন্থর ও পরিকল্পনাহীন ছিল। তাবিথ আউয়াল যুগে নতুন প্রত্যাশা ও নবজাগরণ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ছেলেদের ফুটবলে ভারতকে হারানো আর নারী ফুটবলের জাগরণ যেন আশার আলো দেখিয়েছে।

২০০৮ সালে প্রথমবার বাফুফের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সালাউদ্দিন। কিন্তু ১৬ বছরের শাসনে জাতীয় দলের জন্য স্থায়ী কোনো ধারাবাহিক পরিকল্পনা গড়ে তুলতে পারেননি। যদিও বিদেশি কোচ, বিদেশি ট্রেনিং ক্যাম্প, আন্তর্জাতিক ম্যাচ-এসব ছিল, কিন্তু জাতীয় দল তেমন ধারাবাহিক সাফল্য পায়নি। ২০০৮ সালের আগে ২০০৩-এ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ; কিন্তু সালাউদ্দিনের দায়িত্বে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ৬ বার অংশ নিয়ে ৫ বার গ্রুপ স্টেজ থেকেই দেশে ফিরে আসে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০০৯-এ ১৪৯তম ছিল। অথচ ধারাবাহিকভাবে নিচে নেমে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন ১৯৭ নম্বরে নেমে পড়ে। একাডেমি তৈরি, জেলা স্তরে ফুটবল উন্নয়ন, প্লেয়ার পুল বা যুবাদের জন্য সুযোগ- সবই উপেক্ষা করা হয়েছে। জেলা লিগ বা ডিভিশন ফুটবল ছিল অনিয়মিত; রাজধানী-কেন্দ্রিক চক্র থেকে বের হওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, আর্থিক অপব্যবস্থাপনা ছিল। ফান্ড, স্পনসরশিপ থেকেও সঠিক পরিকল্পনা ও গুণগত কাজে ব্যর্থ ছিলেন সালাউদ্দিন। বারবার কোচ পরিবর্তন, পারিশ্রমিক দিতে না পারা। ক্লাব ও খেলোয়াড়দের নিয়ে উদাসীন অবস্থান -- সব মিলিয়ে ফুটবল-প্রেমী ও দেশবাসীর কাছে আস্থা হারান সাবেক এই তারকা।

বাংলাদেশ যেভাবে ‘‘২০০৩-এর পর থেকে এগিয়েছিল, সেই গতি আবার কমেও গিয়েছিল”- অনেক বিশ্লেষকই ২০১০-এর পর থেকে এমন মন্তব্য করেছেন। অনেক প্রতিশ্রুতি ছিল -- কিন্তু যুগউপযোগী পরিকল্পনা, যুব ফুটবল বা বেসিক উন্নয়ন না থাকায়, ফল পায়নি। কিন্তু তাবিথ আউয়াল দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন প্রত্যাশা ও জাগরণের সূচনা হয়। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্থিক স্বচ্ছতা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনেন।

২০২৫ সালের ৭ মার্চ, বাফুফের ওপর আরোপিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ফিফা। অর্থাৎ অতীতে আর্থিক অনিয়ম ও ব্যয়-নিয়ন্ত্রণের অভাবে যেভাবে সমস্যায় পড়েছিল ফেডারেশন, সেই অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা চলছে। বাফুফের নতুন কমিটি এখন ব্যয় এবং আয় উভয় দিকেই স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাস করে। নতুন উদ্যোগ নেন তাবিথ। প্রবাসী ও যুব এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দলে জায়গা করে দিয়ে। ইংলিশ লিগে খেলানো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা চৌধুরীর জাতীয় দলে অভিষেক যেন নতুন অধ্যায়ের শুরু হয়। তাঁর খেলায় দর্শকরা উন্মাদিত; অনেকেই বলছেন, “ফুটবল হারানো দিন ফিরে পাচ্ছে।”

শুধু পুরুষ দলে নয়- যুব, অনূর্ধ্ব ১৯ দল এবং দৃষ্টিকোণ থেকে খেলোয়াড়দের খুঁজে এনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে। তাই তাবিথের নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত, আধুনিক ফুটবল কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করতেই বলেছিলেন- আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে একটা কাঠামোগত অগ্রগতি দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে- যেখানে শিশু, যুবক, জেলা, শহর, যুব, বয়স্ক- সব স্তরে সুযোগ থাকবে। এখন কাজ শুরু হয়েছে, এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে তাদের।

নতুন জাগরণে ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশা ফিরে আসতে শুরু করেছে। জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলাররাও এখন ভালো পারফর্ম করছে। তাই দর্শকদের আকর্ষণ ফিরে আসছে। টিকিট বিক্রি হচ্ছে, গ্যালারি পরিপূর্ণ, মিডিয়া আগ্রহ- সবই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একপ্রকার আশার আলো তৈরি হয়েছে। তবে এই চ্যালেঞ্জ খুব একটা সহজ নয়। নতুন যুগে নতুন প্রতিশ্রুতি। তবে সব কিছুই হঠাৎ বদলে যাবে না। এখনও ক্লাব ফুটবল, জেলা লিগ এবং মাঠ নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। 

পুরোনো অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অর্থ-সংকট বা প্রশাসনিক বাধা- যেকোনো কারণে পরিকল্পনা পিছিয়ে যেতে পারে। তবে কিছু সাফল্য পথ দেখালেও ধারাবাহিক সাফল্য ও পরিবর্তনের জন্য সময় লাগবে। তাবিথের দায়িত্ব যেন একটি নতুন অধ্যায়ের দিকে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ফুটবল ছিল হতাশার ইতিহাস। কিন্তু এখন, মাঠ-মান, পরিকল্পনা এবং ন্যায্য ব্যবস্থাপনায় যদি সত্যিই সৎ হয়, তাহলে বাংলাদেশের ফুটবল সামনে এগোবে।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

বাফুফেতাবিথ আউয়াল

শেয়ার করুন: