অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে রেকর্ডের পাতায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম বড় জয় এসেছে রোববার (১৬ আগস্ট)। ডারউইনে মাত্র চার দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সঙ্গে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরিতে ঐতিহাসিক এই সাফল্য পেয়েছে টাইগাররা। ম্যাচটিতে হয়েছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। পরিসংখ্যানে দেখে নেওয়া যাক—
১ — অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয় বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ায় তৃতীয়বারের চেষ্টায় প্রথম টেস্ট জয় পেল বাংলাদেশ। ডারউইনে ৯ উইকেটে জিতেছে তারা। এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুটি টেস্ট খেললেও দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাত টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। প্রথম জয় এসেছিল ২০১৭ সালে মিরপুরে। সফরকারী দল হিসেবে কেবল ইংল্যান্ডই বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ খেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছিল। ইংল্যান্ড দুইবারের চেষ্টায় জয় পেয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকাও তিনবারের চেষ্টায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট জিতেছিল।
৩ — টস জিতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় হার
গত ১৫ বছরে তৃতীয়বার টস জিতে ঘরের মাঠে টেস্টে হারল অস্ট্রেলিয়া। আগের দুটি হার ভারতের বিপক্ষে—২০২০-২১ মৌসুমে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও গ্যাবায়। ২০২৩ সালে ওভালে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ টেস্টের পর এবারই প্রথম টস জিতে টেস্টে হারের মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া। এর মাঝে টস জিতে টানা নয়টি টেস্টে জয় পেয়েছিল তারা।
১০ — অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ১০ উইকেটই নিল বাংলাদেশের পেসাররা
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররা ১০টি উইকেটই শিকার করেছেন। এক টেস্ট ইনিংসে প্রতিপক্ষের সব উইকেট পেসারদের নেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জন্য এটি দ্বিতীয়বার। ডারউইনে দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলাররা নিয়েছেন ১৪ উইকেট, যা এক টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের যৌথ সর্বোচ্চ।
৯/১১১ — হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত ম্যাচ ফিগার
ডারউইন টেস্টে হাসান মাহমুদের বোলিং ফিগার ৯/১১১। এক টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ফাস্ট বোলারের এটি দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেন তিনি, যা টেস্টে বাংলাদেশের কোনো পেসারের তৃতীয় সেরা ইনিংস বোলিং। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অভিষেক টেস্টে কোনো সফরকারী বোলারের এটি তৃতীয় সেরা ম্যাচ ফিগার। ১৯৯০ সালে মেলবোর্নে পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম এবং ১৯২৪ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডের মরিস টেট ১১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন। আকরাম ১৬০ ও টেট ২২৮ রান দিয়েছিলেন।
১৯ — মিরাজের স্পিনে পাঁচ উইকেট
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২০১৯ সালের পর প্রথম সফরকারী স্পিনার হিসেবে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০১৯ সালে ভারতের কুলদীপ যাদবের পর মিরাজই এই কীর্তি গড়লেন। ২০১৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় সফরকারী স্পিনার হিসেবে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া মাত্র দুজন—কুলদীপ ও মিরাজ। ২০০০ সালের পর মিরাজ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া একমাত্র সফরকারী অফস্পিনার হলেন ইংল্যান্ডের গ্রায়েম সোয়ান, যিনি ২০১০ সালে অ্যাডিলেডে এই কীর্তি গড়েছিলেন। ডারউইনে হাফ সেঞ্চুরিও করেছেন মিরাজ। একই টেস্টে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান ও ফাইফার পাওয়ার ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারে চতুর্থবার। এর মধ্যে দুটি এসেছে অ্যাওয়ে টেস্টে।
৩৩ — ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির অপেক্ষা
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করতে ক্যামেরন গ্রিনকে খেলতে হয়েছে ৩৩ ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পেতে তাঁর চেয়ে বেশি ইনিংস খেলেছেন কেবল ইয়ান হিলি (৪১) ও বব সিম্পসন (৩৬)।
৯ — হ্যাজলউডের ৩০০ টেস্ট উইকেট
নবম বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন জশ হ্যাজলউড। আগের আটজনের মধ্যে তিনজনই ডারউইন টেস্টের একাদশে ছিলেন—নাথান লায়ন, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক। একই একাদশে চারজন ৩০০ বা তার বেশি টেস্ট উইকেট নেওয়া বোলারের খেলার নজিরও এবারই প্রথম।
৩ — দেশের বাইরে তৃতীয় টেস্ট জয় শান্তর
অধিনায়ক হিসেবে দেশের বাইরে তৃতীয়বার টেস্ট জিতলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কের জন্য এটিই সর্বোচ্চ অ্যাওয়ে টেস্ট জয়। তাঁর আগের দুটি জয় এসেছিল ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে অধিনায়ক হিসেবে নয়টি টেস্ট জয় নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক হয়েছেন শান্ত।
৬ — আট দলের মধ্যে ছয়টির বিপক্ষেই কামিন্সের হার
অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার আট প্রতিপক্ষের মধ্যে ছয়টির বিপক্ষেই টেস্টে হেরেছেন প্যাট কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে এটিও একটি বিরল রেকর্ড। এর আগে ছয়জন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক পাঁচটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের কাছে হেরেছিলেন। তবে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে এখনো অপরাজিত কামিন্স।
ভোরের আকাশ/সু.পা