৬ষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার অপেক্ষায় রোনালদো, পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কোচ

সম্ভবত নিজের ক্যারিয়ারের শেষ এবং ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল ছেড়ে সৌদি আরবের লিগে যোগ দেওয়ার পর এবারই প্রথমবার ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অংশ নিতে চলেছেন তিনি। এর আগের পাঁচটি বিশ্বকাপেই গোল করার অনন্য কৃতিত্ব রয়েছে এই তারকার। সৌদি লিগে খেললেও তার খেলার মান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব অপরিবর্তিত রয়েছে বলে মনে করেন পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপ শেষে সৌদি ক্লাব আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা রোনালদো। তুলনামূলকভাবে কম প্রতিযোগিতামূলক লিগে খেলার কারণে তার পারফরম্যান্স কমে যাবে কি না—এমন প্রশ্নও উঠেছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে ৪১ বছরে পা রাখা এই ফরোয়ার্ড আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের ফর্ম নিয়ে সব ধরনের সন্দেহ উড়িয়ে দিয়েছেন।
তার কথার বাস্তব প্রমাণ হিসেবে নিয়মিতই গোল করে যাচ্ছেন রোনালদো—আল নাসর ও পর্তুগাল জাতীয় দল দুই জায়গাতেই। বিশ্বকাপের আগে তার ক্ষুধা ও প্রতিশ্রুতি এখনো আগের মতোই আছে বলে মনে করেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তিনি জানান, রোনালদো এখনো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করে চলেছেন এবং জাতীয় দলের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় তা দেখাচ্ছেন। সব অর্জনের পরও এমন মনোভাব ধরে রাখা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে জাতীয় দলে সুযোগ পেতে হলে অতীত নয়, বর্তমান পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আসন্ন বিশ্বকাপে রোনালদো এবং আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি দুজনই ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিরল রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডও রোনালদোর দখলে। পাশাপাশি তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যিনি পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করেছেন। মার্টিনেজের মতে, রোনালদো দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তার মতো অভিজ্ঞতা ও অর্জন খুব কম খেলোয়াড়েরই আছে। তবে জাতীয় দলের সবাইকেই সমানভাবে পারফর্ম করতে হয়।
ইউরোপ ছেড়ে সৌদি আরবে খেললেও জাতীয় দলে রোনালদোর পারফরম্যান্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। শেষ প্রায় ত্রিশ ম্যাচে তিনি পর্তুগালের হয়ে পঁচিশটি গোল করেছেন। ২০২৪ ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছালেও পাঁচ ম্যাচে তিনি গোলশূন্য ছিলেন। তবে ২০২৫ সালের নেশনস লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দলকে শিরোপা জয়ে সহায়তা করেন তিনি, ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে গোলও করেন।
৪১ বছর বয়সেও শারীরিক ফিটনেস অসাধারণভাবে ধরে রেখেছেন রোনালদো। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়লেও দ্রুতই মাঠে ফিরেছেন। ৭ মে আল নাসরের হয়ে নিজের ১০৫তম লিগ ম্যাচে তিনি সৌদি প্রো লিগে শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তার পারফরম্যান্সের কারণে ক্লাবটি ২০১৯ সালের পর প্রথম লিগ শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
আল নাসরে তার সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্স কাছ থেকে দেখছেন রোনালদোর কঠোর পরিশ্রম ও ফিটনেস ধরে রাখার মানসিকতা। তার ভাষায়, চল্লিশের পরও এমন পারফরম্যান্স সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। প্রতিদিন ও প্রতিটি ম্যাচে রোনালদোর পরিশ্রমই তাকে আলাদা করে তোলে।
ভোরের আকাশ/সু.পা