ফিফা পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে মেসি, এমবাপ্পে দ্বিতীয়

ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। একটি ভুলই বছরের পর বছরের পরিশ্রমকে ম্লান করে দিতে পারে। কেউ ছিটকে যাবেন, আবার কেউ গড়বেন নতুন ইতিহাস।
গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার ছিলেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তিন ম্যাচে তিনি করেছেন ছয় গোল। এর ফলে ছয় আসর মিলিয়ে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ৩৯ বছর বয়সী মেসি চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড—তাদের চেয়েও বেশি গোল করেছেন।
দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে ফিফার নতুন ‘পাওয়ার র্যাঙ্কিংসে’ শীর্ষে আছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। ম্যাচভিত্তিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি এই তালিকায় গ্রুপ পর্ব শেষে সর্বশেষ প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে তিনি প্রথম স্থানে রয়েছেন।
ফিফার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘পাওয়ার র্যাঙ্কিংস’ হলো একজন খেলোয়াড়ের ম্যাচ ও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে পারফরম্যান্স মূল্যায়নের একটি সূচক। প্রতিটি ম্যাচ ও পুরো আসরের জন্য খেলোয়াড়দের আলাদা স্কোর দেওয়া হয়। আক্রমণ, সৃজনশীলতা ও ডিফেন্স—এই তিন বিভাগে ০ থেকে ১০ পর্যন্ত নম্বর নির্ধারণ করা হয়। গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে বল দখল ও গোল রক্ষা বিবেচনা করা হয়।
গ্রুপ পর্ব শেষে মেসির স্কোর— আক্রমণে ৮.৪৯, সৃজনশীলতায় ৬.৫৫ এবং ডিফেন্সে ৫.১৭। তার পরে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (আক্রমণে ৮.২৬, সৃজনশীলতায় ৭.৩৭, ডিফেন্সে ৪.৬২)।
তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন জার্মানির স্ট্রাইকার ডেনিজ উনদাভ। ভিএফবি স্টুটগার্টের এই ফরোয়ার্ড আক্রমণে পেয়েছেন ৭.৮৫, সৃজনশীলতায় ৬.২০ এবং ডিফেন্সে ৪.৫৩ নম্বর। এদিকে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তার দল জার্মানি।
চতুর্থ স্থান থেকে নেমে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এখন তালিকার ছয় নম্বরে। তার স্কোর— আক্রমণে ৭.৬২, সৃজনশীলতায় ৬.৫, ডিফেন্সে ৪.৭৯।
অন্যদিকে পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রয়েছেন ৭৪তম স্থানে। তার স্কোর— আক্রমণে ৫.৮২, সৃজনশীলতায় ৫.০৬ এবং ডিফেন্সে ৪.৭৭।
তবে তালিকায় নেইমারের অবস্থান নির্দিষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি। চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় তিনি নিয়মিত শুরুর একাদশে খেলতে পারেননি। ফলে পর্যাপ্ত ম্যাচ সময় না পাওয়ায় র্যাঙ্কিংয়ে তাকে মূল তালিকায় রাখা হয়নি।
চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম চমক ডেনিজ উনদাভ, যিনি জার্মানির হয়ে খেললেও ইয়াজিদি ও কুর্দি বংশোদ্ভূত। তিনি এমন দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যাদের নিজস্ব কোনো বিশ্বকাপ দল নেই।
উনদাভ বদলি হিসেবে মাঠে নেমে এখন পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন এবং দুটি গোলে সহায়তা করেছেন। গোলদাতাদের তালিকায় তিনি মেসি ও এমবাপ্পের ঠিক পেছনে অবস্থান করছেন।
নিজেকে কুর্দি-ইয়াজিদি পরিচয় দেওয়া উনদাভ একজন শরণার্থী পরিবারের সন্তান। তার এই সাফল্য উদযাপন করছে ঐতিহাসিকভাবে নিপীড়নের শিকার ইয়াজিদি সম্প্রদায়। বিশেষ করে ২০১৪ সালে ইরাকের সিনজারে ভয়াবহ হামলার স্মৃতি আজও তাদের মধ্যে গভীরভাবে বিদ্যমান।
গ্রুপ পর্ব শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে উনদাভ বলেন, তার পারফরম্যান্স যদি বিশ্বজুড়ে মানুষকে, বিশেষ করে ইয়াজিদি তরুণদের অনুপ্রাণিত করে, তবে সেটিই হবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা-মা সবসময় আমাকে শেখান, মানুষ আমাকে কীভাবে দেখে। এটা আমাকে গর্বিত করে যে আমাদের সম্প্রদায়ের একজন এখন বিশ্বমঞ্চে সম্মান পাচ্ছে।”
ভোরের আকাশ/সু.পা